1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
অনিয়ম,দুর্নীতি যার নিত্যসঙ্গী : সিসিক'র প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফের পলায়ন
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন




অনিয়ম,দুর্নীতি যার নিত্যসঙ্গী : সিসিক’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফের পলায়ন

খলিলুর রহমান
    আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ৮:০৫:১৮ অপরাহ্ন

দুর্নীতির বরপুত্র সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান পাড়ি দিয়েছেন আমেরিকায়। গতকাল সোমবার (৩১অক্টোবর) তার আমেরিকায় পৌছানোর কথা রয়েছে। সিসিক’র প্রধান নির্বাহী কর্মর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ। সিটি কর্পোরেশনে স্থায়ী চাকরি ও দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের সুযোগে প্রভাব বিস্তার করে একাধারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন তিনি । নামেমাত্র বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দেখিয়ে লোপাট করেছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। এক তৃতীয়াংশ লেবার খাটিয়ে বিল তুলে নিয়েছেন তিনগুন। জ্ঞাত আয়বহির্ভুত বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন নিজ এলাকায়। করেছেন গাড়ি বাড়ি খামার ও জায়গা জমি।

অভিযোগে প্রকাশ, মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা হানিফুর রহমান ছিলেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তার চাকরি পেয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন হানিফ। শ্রমিকদের নামে টাকা আত্মসাতের কাজ করে আসছিলেন পদায়নের শুরু থেকেই। প্রত্যহ রাতে নগরীর পরিচ্ছন্নকাজে ১৫০ জন শ্রমিক লাগানোর কথা থাকলেও ৪০ থেকে ৫০ জন দিয়ে পরিচ্ছন্ন কাজ করিয়ে ১৫০ জনের বিল তুলে নিয়েছেন হানিফ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পরিচ্ছন্ন কর্মী এ প্রতিবেদককে জানান, কাজে লোকবল কম থাকায় তাদের দিয়েই নিয়মের অতিরিক্ত কাজ করিয়েছেন হানিফ। এ নিয়ে প্রায়ই পচ্ছিন্ন কর্মীদের মধ্যে বিশৃংখলা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল।

নগরীকে হকারমুক্ত করার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার মূলেও সিসিক’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফেরই কালো হাত। হকার দমনে নিয়োজিত সুপারভাইজারদের লাগিয়ে দেন চাঁদা বানিজ্যে। নগরজুড় বসানো হকারদের কাছ থেকে লাইনম্যানরা যে চাঁদা আদায় করে, এর বড় একটা অংশ পেয়ে থাকে নিয়োজিত সুপারভাইজাররা। আর সুপারভাইজারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নিয়ে থাকেন সিসিক’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফ।

নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন সুপারভাইজার জানান, পুলিশের লাইনম্যানরা হকারদের কাছ থেকে ৫০,১শ’ ও ২শ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করে থাকে। এ টাকার একটা বড় অঙ্ক প্রতিদিন বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত সুপারভাইজারদের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়ে থাকে সিসিক’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফের কাছে। এ খাত থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেয়ে থাকন সিসিক’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফ।

এছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের সাথে রয়েছে দলীয় টেন্ডারবাজ ও অসাধু ঠিকাদারদের গভীর সখ্যতা। টাকার বিনিময়ে টেন্ডার পাইয়ে দিতে প্রভাব বিস্তার করে রাতের আঁধারেও টেন্ডার ড্রপ করিয়ে নিতেন তিনি। কোনো কাজের সিডিউল বিক্রি ও জমা নিতেও করেন নানা টালবাহানা এবং সুক্ষ্মকারচুপি। ফলে সিসিক’র অনেক ঠিকাদারের ক্ষোভ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগে আরো প্রকাশ,নগরীর রাস্তায় চলাচলকারী অবৈধ রিক্সা, হাতাগাড়ি জব্ধ করে রাতের আধারে তা ভাঙ্গাড়ীর কাছে বিক্রি করেও টাকা হাতিয়ে নেন হানিফ।
সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মচারীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে প্রত্যেক শাখাকে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করে ফেলেছেন তিনি। সিটি কর্পেরেশনের এমন কোন শাখা বা বিভাগ নেই, যেখানে হস্তক্ষেপ নেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের। প্রত্যকে শাখার দালালদের সাথে রয়েছে হানিফের অবৈধ আর্থিক সম্পর্ক। প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দালাল ও বাটপারদের নানা অবৈধ কাজ করিয়ে দিতে অধঃস্তন কর্মকর্তা কর্মচারিদের বাধ্য করে থাকেন তিনি। বিশেষ করে লাইসেন্স শাখা ও জন্মনিবন্ধন শাখার দালালদের কাছ থেকে টাকার কমিশন গ্রহণ তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিনত। আর এ কারণে হানিফুর রহমানকে সিসিক’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা না বলে অনেকে তাকে ‘ কমিশন কর্মকর্তা’ বলে অভিহিত করে থাকেন ।

অভিযোগ রয়েছ, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আল্লাহর ঘর মসজিদ ও সনাতনীদের মন্দিরের নামে স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া অনেক টিউবওয়েল ব্যক্তি মালিকানা বাসা বাড়িতে বসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা কামাই করেন হানিফ। মসজিদের নামে বরাদ্দ একটি টিউবওয়েল নগরীর কল্বাখানী জালালিয়া ২৫ নং বাসায় স্থাপন করা হয় হানিফুর রহমানের নির্দেশেই। এভাবে মসজিদ মাদ্রাসা ও মন্দির-গীর্জার নামে বরাদ্দকৃত বহু নলকুপ তিনি টাকার বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসা বাড়িতে স্থাপন করিয়ে দেন।

সিসিক’র পরিচ্ছন্ন শাখা ছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন হানিফ। করোনা, ডেঙ্গুরোধ ও মশক নিধনে প্রতিবছর তেমন কোনো কাজ না করিয়েই হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। মশক নিধন ও কুকুর নিধনে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের একটা কমিশন যেতো তার হাতে। সিসিক’র পানিবিভাগের কাজেও অনিয়ম আত্মসাতে রয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের কালো হাত। সাপ্লাইয়ের লাইনের সাথে মটর বসিয়ে অনেক বাসাবাড়িতে অবৈধ পানি উত্তোলনেও রয়েছে তার কমিশন।

দীর্ঘপ্রায় তিনদশক ধরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশানিক কর্মকর্তা পদে চাকরি করছেন হানিফুর রহমান। আর এ দীর্ঘমেয়াদে অনিয়ম আত্মসাতের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেন। নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভুত অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন হানিফ। সিলেট নগরে বিলাসবহুল জীবন যাপনের পাশপাশি নিজ এলাকায় করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি, কোটি-কোটি টাকামূল্যের জায়গা-জমি ও খামার। তার আয়ের উৎসের খোজ নিতে তাকে চলমান শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনার দাবি উঠেছে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারী-সহ বিভিন্ন মহল থেকে।

সিলেট সিটি কর্পেরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের অনিয়ম-দুর্নীতির অন্তঃনেই। তার অনিয়ম দুর্নীতির সরেজমিন অনুসন্ধানে রয়েছে মিডিয়ার একটি টিম। আর এ সময়েই তিনি পাড়ি জমিয়েছেন সুদুর আমেরিকায়।

সিসিক’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান আমেরিকায় বেড়াতে না প্রশিক্ষণে গিয়েছেন এ প্রশ্নে জবাবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে সোমবার তার আমেরিকায় পৌছানোর কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020