1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
অব্যবহৃত দিরাই কালনী সেতু, দুর্ভোগে লাখো মানুষ
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন




অব্যবহৃত দিরাই কালনী সেতু, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
    আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২২, ৭:৩২:১৬ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জের দিরাই কালনী নদীতে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটি মানুষের কাজে আসছে না। সেতু হলেও সড়ক না হওয়ায় ওই এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

দিরাই-শাল্লা ও জগন্নাথপুরসহ ভাটি অঞ্চলের মানুষের রাজধানী ঢাকায় যেতে ৩ ঘণ্টার পথ ঘুরতে হয়। বিভাগীয় শহর সিলেটে যেতেও দেড়ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। এই সড়ক হলে পূর্ব দিরাইয়ের প্রায় দেড় লাখ মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলেক উদ্দিন বলেন, কালনী নদীর উপর কয়েক বছর আগে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু হয়েছে, কিন্তু সেই সেতু দিয়ে চলাচল করার জন্য এখনো সড়ক নির্মাণ করা হয়নি এটাকে দায়িত্বের অবহেলা মনে করি।

দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে আমরা দিরাইবাসী জোর দাবি জানাই। স্থানীয়রা আরও জানান, সেতু নিমার্ণ করা হয়েছে, কিন্তু সেই সেতুর সড়ক নিমার্ণ করা হয়নি। আমরা মনে করি সরকারের ২২ কোটি টাকা জলে গেছে। সেতু আছে অথচ সড়ক নেই, সড়ক হলে পূর্ব দিরাইয়ের দেড় লাখ মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে।

জানা যায়, পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগের জন্য ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মিটার দীর্ঘ কালনী ব্রিজ নির্মাণ শুরু হয়। এছাড়া, ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজের দুই পাশে গাইডওয়াল দিয়ে ৩৭৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। কালনী নদীর ওপর শেষ হয় সেতু নির্মাণকাজ। তবে সড়ক না হওয়ায় অব্যবহৃত পড়ে আছে সেতুটি। হাওড়পাড়ের দিরাই উপজেলার সঙ্গে সিলেট ও ঢাকার সড়ক দূরত্ব কমাতে সেতুটি নির্মিত হলেও তা স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না।

জমি অধিগ্রহণ, নকশা নিয়ে জটিলতা আর বিশ্বব্যাংক অর্থ ফিরিয়ে নেয়া সব মিলিয়ে হযবরল অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই সড়ক নির্মাণে প্রায় ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়াত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের উদ্যোগে ২১০ মিটার দীর্ঘ ও ৬ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। শুরুতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ১৮ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

পরে ব্যয় বেড়ে হয় ২২ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। এ সড়ক নির্মিত হলে কালনী-কলকলিয়া সড়কটি দিরাই থেকে পূর্ব দিরাই হয়ে যাওয়া সুনামগঞ্জ-পাগলা-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কে যুক্ত হবে।

এতে দিরাই-শাল্লার সাথে রাজধানী ঢাকা ও সিলেটের দূরত্ব কমে আসবে। এছাড়া কালনী নদীর পূর্বাঞ্চলের দেড় লাখ মানুষ সরাসরি সড়কপথে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে। সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এ পর্যন্ত কালনী-কলকলিয়া সড়কের কাজ শুরু না হওয়ায় সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। এতে করে যাতায়াতের দুর্ভোগও কমছে না স্থানীয় বাসিন্দাদের। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ আটকে যায়। পরে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু অধিগ্রহণকৃত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে আপত্তি জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর। ওই পাঁচ কিলোমিটার এলাকা হাওড়ের মধ্যে হওয়ায় সেখানে সড়ক নির্মাণের ফলে হাওড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

আপত্তির কারণে নতুন করে সড়কের নকশা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এলজিইডির স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে এ প্রকল্পটি ছিল বিশ্বব্যাংকের অধীনে। জটিলতার কারণে অর্থ ফিরিয়ে নেয় বিশ্বব্যাংক।

এতে আটকে যায় সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ।এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন বলেন, এই সড়কের ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই দিরাই ও জগন্নাপুরের একাংশের মানুষের জরুরি এই সড়কের পরবর্তী কাজ শুরু হবে।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020