1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
আরো বাড়তে পারে ডলার সংকট
মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:৩২ অপরাহ্ন




আরো বাড়তে পারে ডলার সংকট

বাংলানিউজ এনওয়াই ডেস্ক :
    আপডেট : ২৪ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:২৭:০০ অপরাহ্ন

গত বছর থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ডলার সংকট। নতুন বছরের শুরুতেও এ পরিস্থিতি উন্নতির কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো ডলারের অভাবে তারা ব্যাংকে এলসি খুলতে পারছেন না। আমদানি মূল্য মেটাতে না পারায় পণ্য নিয়ে বন্দরে আটকে রয়েছে জাহাজ। এমনকি সরকারি অনেক উদ্যোগও ডলার সংকটের কারণে জটিলতায় ভুগছে।

যদিও এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছিলেন যে, নতুন বছর নাগাদ ডলার সংকট মিটে যাবে। সংকটের কোন সমাধান তো দেখা যাচ্ছেই না, উল্টো পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশংকা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আমদানি সংকট কাটছে না

রোজা সামনে রেখে সাতটি পণ্য জরুরি ভিত্তিতে আমদানিতে সহায়তা করার জন্য ডিসেম্বরের মাসের শুরুতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে’ এসব পণ্য আমদানিতে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছিল। এসব পণ্য আমদানিতে প্রায় আড়াইশো কোটি ডলার দরকার হবে। সেই সময় ব্যবসায়ীদের এলসি সমস্যা মেটাতে একটা ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল’ খোলার কথাও জানিয়েছিল সরকার।

কিন্তু জানুয়ারি মাসের শেষদিকে এসেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিস্থিতির কোন বদল হয়নি। ফলে সোমবার আরেকদফা চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডলার সংকটে আমদানি মূল্য পরিশোধ করতে না পারায় চিনি ও সয়াবিন তেল নিয়ে নিত্যপণ্য বহনকারী পাঁচটি জাহাজ বন্দরে আটকে রয়েছে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাঁচ ছয় মাস আগে থেকে পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির এখনো খুব একটা উন্নতি হয়নি।

খাদ্য পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বাশার চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’পরিস্থিতির আসলে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। ব্যাংকগুলো এখনো ক্যাশ এলসি খুলতে রাজি হচ্ছে না।”

”কোন কোন ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি এলসি খুলতে বলছে। কিন্তু সেটা করলে অনেক অনিশ্চয়তা আছে। আমদানি করার পণ্যের কি দাম ধরব, ভবিষ্যতে কি ডলারের দাম কেমন হবে ইত্যাদি ঝুঁকি রয়ে যায়।‘’

দীর্ঘমেয়াদি এলসির ক্ষেত্রে সুদে তিনমাস বা ছয়মাস মেয়াদি হয়ে থাকে। তৃতীয় কোন ব্যাংক এলসির মূল্য পরিশোধ করে দেয়। মেয়াদ উত্তীর্ণের সময় ডলারের যে দাম থাকে, সেই দামে ব্যবসায়ীকে পরিশোধ করতে হয়।

বর্তমানে ডলারের সংকট থাকায় ব্যাংকগুলো এই পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু সুদের অতিরিক্ত হার এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় অনেক ব্যবসায়ী তাতে রাজি হচ্ছেন না।

ডলার সংকটের সমাধান কতদূর

ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২২) ৭৮০ কোটি ডলার সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলছেন, ‘’আমাদের ধারণা, এই পরিস্থিতি সহসা উন্নতি হবে না। বরং সংকট আরও বাড়বে সামনের দিনগুলোতে। ‘’

‘’তার কারণ হল, এই মুহূর্তে আমরা রেমিট্যান্স ও রপ্তানির কিছুটা ইতিবাচক ধারা দেখছি। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে যে সরবরাহ আসছে, সেটা যথেষ্ট না। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও সারের জন্য বিপুল ডলার ব্যবহার করতে হচ্ছে, শিল্পকারখানার কাঁচামাল, সরকারি প্রকল্প তো রয়েছেই।”

”আইএমএফের ঋণ পরিস্থিতি কিছু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, কিন্তু হয়তো পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে পারবে না।‘’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মোহাম্মদ মেজবাউল হক বলেছেন, ‘’সমস্যা সমাধানে সবরকম পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকেও এলসি নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে আমাদের জানাতে বলেছি। রেমিট্যান্স আসছে, রপ্তানি আয়েও ইতিবাচক ধারা রয়েছে। আশা করছি সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি মিটে যাবে।‘’

বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে সংকট শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ, যা এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পাশাপাশি আমদানিখাতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশে ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২২ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’রপ্তানি আয় এখন কিছুটা ভালোর দিকে। সেই তুলনায় আমদানি কিন্তু কমেছে।”

”যদিও বিশ্ববাজারে মন্দা আছে, যেরকম রপ্তানি অর্ডার পাওয়ার কথা, ততোটা আসছে না। কিন্তু অর্ডার আসতে শুরু করেছে, যদিও প্রাইসিং ইজ টাফ। কিন্তু এই পরিস্থিতি ভালো হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি। তখন রপ্তানি আয় আরও বাড়বে।‘’

তবে তিনি স্বীকার করছেন, বিশ্ববাজারে মন্দা থাকার কারণে তৈরি পণ্যের দাম যেমন ভালো পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020