1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
ঈদে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত হবিগঞ্জের দর্শনীয় স্থান
শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১৯ অপরাহ্ন




ঈদে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত হবিগঞ্জের দর্শনীয় স্থান

মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ
    আপডেট : ০২ মে ২০২২, ৬:১২:৩২ অপরাহ্ন

উন্নত মানের চায়ের কথা মনে পড়তেই যেকটি জেলার নাম চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তারমধ্যে হবিগঞ্জ অন্যতম। এ জেলার উত্তরে সুনামগঞ্জ ও সিলেট, পূর্বে মৌলভীবাজার, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। ৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলার এক পাশে হাওড়। অপর পাশে পাহাড়ি এলাকা। মাঝে শিল্পাঞ্চল, গ্রাম ও শহর।

এখানে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে মাধবপুর উপজেলায় তেলিয়াপাড়া চা বাগান সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, শাহাজিবাজার রাবার বাগান, চুনারুঘাট উপজেলার মুড়ারবন্দ সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিনের (র.) মাজার, কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বিভিন্ন চা ও রাবার বাগান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, বানিয়াচংয়ের সাগরদিঘী, বিথঙ্গঁল আখড়া, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল শংকরপাশা শাহী মসজিদ উল্লেখযোগ্য।

ঈদুল ফিতরে পর্যটক বরণে প্রস্তুত রয়েছে হবিগঞ্জের দর্শনীয় স্থানগুলো। জানা গেছে, ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। এ উদ্যানে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পর্যটকদের অবস্থান লেগেই থাকে। কারণ এখানে সহজেই আসা যায়। উদ্যানের গভীর অরণ্যে দেখা যাচ্ছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। আশেপাশে রয়েছে চা বাগান। পাশেই তেলিয়াপাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ। উদ্যানে রয়েছে থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থা। রয়েছে নিরাপত্তা। করোনাভাইরাসের কারণে দুই দফা বন্ধ থাকার পর জেলার চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে পর্যটক সমাগম বাড়ছে। পর্যটক নিরাপত্তায় সাতছড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঈদে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাজানো হয়েছে উদ্যানে অবস্থিত দোকানগুলো।

সাতছড়ি উদ্যানের কাউন্টার ম্যানেজার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ঈদে পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তত সাতছড়ি উদ্যান। এ লক্ষে কাজ করা হয়েছে। থাকবে নিরাপত্তা।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণী বিট কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সাতছড়িতে প্রচুর বন্যপ্রাণী রয়েছে। রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ। মনোরম প্রাকৃতি পরিবেশে ঘুরে পর্যটকরা আনন্দিত।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা মনিটরিং করা হবে। নতুন গেট করা হবে। পরিস্কার করা হয়েছে বসার আসনগুলো। তিনি জানান, দুই দফা উদ্যান বন্ধ থাকায় হতাশায় ছিলেন দর্শনার্থীরা। করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবারের ঈদে পর্যটকের ঢল নামবে আশা করা হচ্ছে।

কলেঙ্গার রেঞ্জ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, কালেঙ্গায় পর্যটকরা আসছে। তবে সাতছড়ির ন্যায় পর্যটক কালেঙ্গায় আসে না। আমরা পর্যটক আকর্ষণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

জানা গেছে, খোলা থাকলে সাতছড়িতে প্রতিদিন ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার পর্যন্ত পর্যটক আসেন। বয়স্কদের টিকিট বিক্রি হয় ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২৫ টাকা। একইভাবে কালেঙ্গায় টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। অবশ্য হবিগঞ্জের অন্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে টিকিট করার নিয়ম চালু হয়নি।

প্রায় ১৬ হাজার একরজুড়ে অবস্থিত রেমা-কালেঙ্গার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য মূলত তরফ পাহাড় সংরক্ষিত বনভূমির অংশ, যা দেশের অবশিষ্ট পার্বত্য বনভূমির মধ্যে সর্ববৃহৎ। অভয়ারণ্যটি চুনারুঘাট উপজেলার অর্ন্তগত গাজীপুর ও রানীগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর বিস্তৃত। অপেক্ষাকৃত দুর্গম স্থানে অবস্থিত বলে এই সমৃদ্ধ মিশ্র চিরহরিৎ বনটি এখনো টিকে রয়েছে। অভয়ারণ্যটির আশেপাশে রয়েছে ৩টি চা-বাগান।

রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ৩৭ প্রজাতির স্তণ্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও উড়ংরা এই বনভূমির আশেপাশে এবং অভ্যন্তরে বসবাস করছে।

আর সাতছড়ি উদ্যানের ইতিহাস জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯১২ সালে। ওই বছর প্রায় ১০ হাজার একর দুর্গম পাহাড়ি জমি নিয়ে গঠিত রঘুনন্দন হিলস্ রিজার্ভই কালের পরিক্রমায় ৪ হাজার ৩৫৩ একর জমিতে আজকের উদ্যান। অবশ্য জাতীয় উদ্যান হওয়ার ইতিহাস বেশি দিনের নয়। ২০০৫ সালে ৬০০ একর জমিতে জাতীয় উদ্যান করা হয়। এ উদ্যানের ভেতরে রয়েছে অন্তত ২৪টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। রয়েছে বন বিভাগের লোকজন।

পর্যটকদের জন্য চালু আছে প্রজাপতি বাগান, ওয়াচ টাওয়ার, হাঁটার ট্রেইল, খাবার হোটেল, রেস্ট হাউস, মসজিদ, রাত যাপনে স্টুডেন্ট ডরমিটরি। উদ্যানে দুই শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, সিধা জারুল, আওয়াল, মালেকাস, আকাশমনি, বাঁশ, বেত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তুর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর।

আরও আছে প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি। রয়েছে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক, চশমা পরা হনুমান, শিয়াল, কুলু বানর, মেছো বাঘ, মায়া হরিণের বিচরণ। সরীসৃপের মধ্যে আছে কয়েক জাতের সাপ। কাও ধনেশ, বন মোরগ, লাল মাথা ট্রগন, কাঠঠোকরা, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলদে পাখি, টিয়া প্রভৃতির আবাসস্থল এই উদ্যান।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020