1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
কুরবানি শুরু হয়েছিল কবে থেকে?
বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন




কুরবানি শুরু হয়েছিল কবে থেকে?

বাংলানিউজএনওয়াই ডেস্ক
    আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ৯:২৩:২৬ অপরাহ্ন

বছর ঘুরে আবারো এলো ঈদুল আজহা। মুসলিম জীবনে ঈদুল ফিতরের মতো আরেকটি আনন্দোৎসব এই ঈদুল আজহা। এদিন ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সবাই ঈদগাহে সমবেত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দু’রাকাত নামাজ আদায় করবেন। আর সামর্থ্যবান মুমিন বান্দারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের জন্য শরিয়ত নির্দেশিত পন্থায় তাদের কুরবানির পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করবেন।

এরপর আল্লাহর মেহমানদারি গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করবে। তাৎপর্যগত দিক থেকে ইসলামী ঈদ আর অন্যান্য ধর্মের পর্ব উৎসবের মাঝে এই পার্থক্য রয়েছে যে, অন্যান্য ধর্মে যেখানে শত বছরের পুরনো কোনো ঘটনা কিংবা বিশেষ কোনো ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে বছর বছর উৎসব উদযাপিত হয়; সেখানে ইসলাম মুমিনের ইবাদতের পুরস্কার হিসেবে আনন্দের কথা বলে। তাই এক মাস সিয়াম সাধনার সৌভাগ্যের আনন্দ উৎসব হলো ঈদুল ফিতর। আর হজ, কুরবানি ও আল্লাহর মেহমানদারি লাভের আনন্দোৎসব হচ্ছে ঈদুল আজহা।

কুরবানির মূল সূত্র যদিও মিল্লাতে ইবরাহীমিতে বিদ্যমান ছিল কিন্তু মিল্লাতে ইবরাহীমির ‘সেই’ ঘটনাই আমাদের আনন্দের মৌলিক উৎসব নয়; বরং আমাদের আনন্দের অন্তর্নিহিত কারণ তাই যা ইতোপূর্বে বলা হয়েছে।

কারণ কুরবানি ইসলামেরই একটি স্বতন্ত্র বিধান এবং শরীয়তে মুহাম্মাদীর ‘শিআর’ বা আনন্দ প্রতীক। যুগে যুগে কুরবানি বা প্রিয় পশু আল্লাহর দরবারে উৎসর্গ করার ইতিহাস সুদীর্ঘ। হযরত আদম আ.-এর দুই সন্তানের কুরবানির কথা বিবৃত হয়েছে সূরা মায়েদায়। সেই কোরবানির প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর একটি বর্ণনায়।

বর্ণনাটি এরকম—’হযরত আদম আ.এর দুজন ছেলে ছিলেন। হাবিল আর কাবিল। হযরত হাওয়া আ. প্রত্যেকবার এক জোড়া সন্তান প্রসব করতেন। একটি ছেলে অপরটি মেয়ে। এই যমজ ভাইবোনদের বিয়ে ছিল হারাম। তাই তখন এক গর্ভে জন্মলাভ করা ছেলের সাথে ভিন্নগর্ভে জন্মলাভ করা মেয়ের বিয়ের নিয়মই প্রচলিত ছিল।

কাবিলের যমজ বোনটি ছিল সুশ্রী। যমজ হওয়ার কারণে তাকে কাবিল বিয়ে করার নিয়ম না থাকলেও তার জেদ ও হঠকারিতা ছিল যে- সে তাকেই বিয়ে করবে। অন্যদিকে হকদার হওয়ার দাবি ছিল হাবিলের। এই দ্বন্দ্বের ফয়সালা হলো এভাবে- প্রত্যেকে আল্লাহর সান্নিধ্যে কিছু কুরবানি করবে; যার কুরবানি কবুল হবে তার দাবিই গ্রহণযোগ্য হবে। হাবিল একটি দুম্বা ও কাবিল কিছু ফলফলাদির কুরবানি পেশ করল।

তখনকার দিনে কুরবানি কবুল হওয়ার নিদর্শন ছিল, আকাশ থেকে আগুন নেমে কবুলকৃত কোরবানি খেয়ে ফেলত। যথারীতি আগুন এসে হাবিলের দুম্বাটি খেল, কাবিলের কুরবানি রয়ে গেল মাটিতেই। কিন্তু তা মেনে নিতে পারেনি কাবিল। প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে সে হত্যা করে ফেলল তার ভাইকে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৪৮)

সূরা মায়েদার ২৭ থেকে ৩১ আয়াত পর্যন্ত এ ঘটনাটি আরো সংক্ষিপ্তভাবে বিবৃত হয়েছে।

হযরত আদম আ.-এর পর প্রত্যেক উম্মত বা জাতির মধ্যেই এই বরকতময় আমল বিদ্যমান ছিল।  পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কুরবানি নির্ধারণ করেছি। যেন তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ পশুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের ইলাহ তো এক আল্লাহ। অতএব তোমরা তারই অনুগত থাক এবং (হে নবী) আপনি সুসংবাদ দিন বিনীতদের। (সূরা হজ : ৩৪)

উল্লেখ্য যে, বিধান থাকলেও সকল উম্মতের কুরবানির নিয়ম এক ছিল না। ইসলামী শরীয়তে যে পদ্ধতিতে কুরবানি করা হয় তাও আল্লাহতায়ালার পক্ষ হতে নির্দেশিত এবং তা মিল্লাতে ইবরাহীমির অংশ। হযরত ইবরাহীম আ. আল্লাহতায়ালার আদেশে তার প্রিয় পুত্র ইসমাঈলকে কুরবানি দিতে উদ্যত হওয়ার ঘটনা খুবই প্রসিদ্ধ।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020