1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
ঘটনার পূর্বাপর>> শাবি শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যাকাণ্ড
বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন




ঘটনার পূর্বাপর>> শাবি শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যাকাণ্ড

নীরব চাকলাদার
    আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ৪:৪৪:২৪ অপরাহ্ন

ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুলবুল নিহতের ঘটনায় আবারও আলোচনায় শাবিপ্রবি। নিহত বুলবুল লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নরসিংদী সদরের নন্দীপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় সন্দেহের তালিকায় থাকা বুলবুলের বান্ধবীর নাম মার্জিয়া ঊর্মি। সে শাবির বাংলা বিভাগের ছাত্রী। সে নেত্রকোনা সদর উপজেলার বাসিন্দা।

যা ঘটেছিল সেদিন :
২৫ জুলাই সোমবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় গাজী-কালুর টিলার অবস্থান। এই টিলার পাশেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর মনোরম পরিবেশের নিউজিল্যান্ড এলাকা। এই এলাকায় বিকাল প্রায় চারটা থেকে অবস্থান করছে চার সদস্যের একটি চক্র। তাদের মধ্যে দুইজন ঘন্টাখানেক পর চলে যায়। সন্ধা ঘনিয়ে আসলে দুইজনের সাথে যোগ দেন কামরুল নামের অপর সদস্য। এ সময় বান্ধবীসহ বুলবুলও আসে একই স্থানে। তারা দু’জনে নিরালায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই এলাকাটি নির্জন থাকায় বুলবুল-ঊর্মিকে সেখানে পেয়ে আবুল হাসান, কামরুল আহমদ ও মো.হাসান মোবাইল ও টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে বুলবুলের সাথে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। চিৎকার শুনতে পেয়ে এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা বুলবুলকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুলবুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় ওইদিন রাতেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।

সন্দেহের তালিকায় ঊর্মি এবং অবসান যেভাবে :
শিক্ষার্থী বুলবুলকে যখন ছুরিকাঘাত করা হয় তখন টিলায় তার সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী ঊর্মি। ছুরিকাঘাতে আহত বুলবুলকে ওসমানী হাসপাতালে আনা হলে ঊর্মিও সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর বুলবুল মারা যান। এ ঘটনায় বার বার অজ্ঞান হয়ে যান ঊর্মি। অবস্থা বেগতিক দেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওইদিন রাতেই নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ঊর্মিকে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) বিকেলে হুট করে হাসপাতাল থেকে ‘উধাও’ হয়ে যান ঊর্মি। পরে পুলিশ ওই প্রাইভেট হাসপাতালে সিসিফোটেজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই ঊর্মিকে উদ্ধার করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে নিয়ে ক্রাইম সিনে (ঘটনাস্থলে) নিয়ে যায় পুলিশ।
এ ঘটনায় ঊর্মিকে নিয়ে সন্দেহের তীর ঘণীভূত হলে বুধবার (২৭ জুলাই) সেটিকে উড়িয়ে দেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ। এসএমপির জালালবাদ থানায় সংবাদ সম্মেলন করে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ জানান, ‘বুলবুলের প্রেমিকা ঊর্মিকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে বলেছে, ঘটনার সময় বুলবুলের কাছ থেকে একটু দূরে সরে গিয়েছিল। বুলবুলের মানিব্যাগও খোয়া যায়নি। গ্রেপ্তারকৃতরা বলেছে, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের পর রক্ত দেখে তারা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।’ ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে উর্মির চলে যাওয়া এবং কললিস্ট মুছে ফেলার বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কের কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।’ তিনি বলেন, ‘উর্মি হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাকে পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, সে জানতে পারে নিহত বুলবুলের জানাজা ক্যাম্পাসে হবে। জানাজায় শরিক হতে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসে। তার চলে আসার পেছনে অপরাধমূলক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উর্মির মোবাইল ও কললিস্ট চেক করে দেখেছি। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের কারও সাথে উর্মির মোবাইল যোগাযোগ ছিল না। তার মোবাইলে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি।’

যা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী :
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন বুধবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ জানান, মূলত ছিনতাই করতেই বুলবুলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। আর এই ছুরিকাঘাত করেন কামরুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে আবুল হোসেন ও মো. হাসান ছিলেন। তাদের সবার বাড়ি টিলাগাঁও এলাকায়। তারা সকলেই গ্রেপ্তার রয়েছেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও বুলবুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আজবাহার আলী শেখ বলেন, তন্মধ্যে মো. আবুল হোসেন খুনের ঘটনায় জড়িত মর্মে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে স্বীকারোক্তি দেন। ঘটনার সাথে জড়িত আরও দুজনের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেন তিনি। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কামরুল আহমদ ও মো. হাসানকে নামে আরও ২ আসামীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর অপর দুই আসামীও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে কামরুলের বাড়ি থেকে বুলবুলের মোবাইল ফোন ও খুনে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, ‘তদন্তে আমরা জেনেছি, ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটেছে।

ছিনতাইকারীরা বুলবুলের মানিব্যাগ ও উর্মির মোবাইল, ব্যাগ কেন নেয়নি, প্রেসব্রিফিংয়ে এমন প্রশ্ন তুলেন সাংবাদিকরা। তখন আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘উর্মিকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে বলেছে, ঘটনার সময় বুলবুলের কাছ থেকে একটু দূরে সরে গিয়েছিল। বুলবুলের মানিব্যাগও খোয়া যায়নি। আসামীরা বলছে, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের পর রক্ত দেখে তারা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়’। ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে উর্মির চলে যাওয়া এবং কললিস্ট মুছে ফেলার বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কের কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি’।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আসামী আবুলের :
শিক্ষার্থী মো. বুলবুল আহমেদ (২২) হত্যা মামলার আসামী আবুল হোসেকে বুধবার (২৭ জুলাই) বিকাল পৌণে ৫ টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর বিচারক সুমন ভূঁইয়ার আদালতে তোলা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবাশীষ দেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীর জন্য আদালতে উপস্থাপন করি। সে বিজ্ঞ বিচারকের কাছে জবানবন্দী দেয়। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে নিহত শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাকে নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের সামাজিক গোরস্তানে বাবার পাশে তাকে শায়িত করা হয়।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020