1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
জাকির দ্বন্দ্বে ছন্দহীন মহানগর : ওয়ার্কিং কমিটির সভা কাল
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন




জাকির দ্বন্দ্বে ছন্দহীন মহানগর : ওয়ার্কিং কমিটির সভা কাল

বাংলানিউজএনওয়াই ডেস্ক::
    আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ৫:৫৫:২৭ অপরাহ্ন

ছন্দে ছিল না সিলেট আওয়ামী লীগ। যার ফলে গেল সিসিক নির্বাচনে দলের জনপ্রিয় মুখ মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকেও হারতে হয়েছিল। তখন থেকেই সিলেটের আওয়ামী লীগকে ছন্দে ফেরাতে উদ্যোগ গ্রহণ করে কেন্দ্র। ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে জেলার সহ সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদকে মহানগর কমিটিতে নিয়ে এসে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক জাকির হোসেনকে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু তিন বছরের মাথায় এসেও ছন্দে ফিরলো না আওয়ামী লীগ। শুরু থেকে সমন্বয়হীনতা থাকলেও সম্প্রতি তা মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। দলীয় প্রয়োজন বোধে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এক মঞ্চে দেখা গেলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের মধ্যে মতানৈক্যের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে বারবার।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সমানে রেখে কেন্দ্রীয় নির্দেশে সবকটি ইউনিটে সম্মেলন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ। এরই ধারাবাহিকতায় নগরীর ২৭ ওয়ার্ডে কাজ করে সাংগঠনিক টিম। ইতোমধ্যে ১২ টি ওয়ার্ডে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সম্মেলনকে ঘিরে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াসহ নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠায় চলমান সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় দলের ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহবান করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর এই সভার পূর্ব পর্যন্ত অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতে সম্মেলন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মহানগরে দলীয় অবস্থা এমনটি হলে ২০২৩ সালে সিসিক ও জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বিজয়ে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। অবস্থাদৃষ্টে ২৫ অক্টোবর ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক আহবান করেছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ। একই সাথে ওয়ার্কিং কমিটির সভার আগে আর কোনো ওয়ার্ডে সম্মেলন না করার ঘোষণা দিয়েছেন দলের মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ।

দলীয় তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে যে ১৩ টি ওয়ার্ডে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা হলো ২৭,২৬,২৫,২৪,২১,১৯,১৮,১৩,১২,৬,৪,৩ ও ১ নং ওয়ার্ড। এর মধ্যে চারটি ওয়ার্ডে সম্মেলন নিয়ে প্রকাশ্য কোনো অভিযোগ না থাকলেও ৮ টি ওয়ার্ডে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ফলে বাড়ছে গৃহদাহ ও অসন্তোষ। সেই অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যরূপ নিয়েছে। দলের সুসময়ে যে দূর্বল নেতৃত্ব তৈরী হয়, ওয়ার্ড কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে টের পাচ্ছেন দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে মহানগর আ.লীগের সেক্রেটারী অধ্যাপক জাকিরের অন্যায়, অনৈতিক, নেতৃত্বে আত্মীয়করণে অতিষ্ট হয়ে উঠছেন তারা। গেল ২২ অক্টোবর দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনের উপর স্বেচ্ছাচার ও অনিয়মের নানা অভিযোগ তোলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর রাতে তার নিজ এলাকার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা নিয়ে নাজেহাল হয়েছেন তিনি। এমনকি কমিটি ঘোষণা করেই দৌঁড়ে পালিয়ে নিজের ইজ্জত রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও করেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। কমিটি ঘোষণা নিয়ে পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ায়, সম্মেলন স্থলেই কমিটি স্থগিত করতে বাধ্য হন জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ।

২৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি গঠনেও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে সেক্রেটারী জাকিরের বিরুদ্ধে। ওই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও সিসিক কাউন্সিলর তাকবির হোসেন পিন্টু বলেন, মহানগর সেক্রেটারী তৃণমূলের মতামত না নিয়ে পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটি ঘোষণা করেছেন। কমিটি গঠনে ভোটের কোন প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ করে ভোটের পক্ষে মত দেন তিনি। এ সময় বিরোধীতা করলে বাইরে গিয়ে তার পছন্দের দুইজনকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন তিনি।

নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ খালাতো ভাইকে সেক্রেটারী বানাতে নানা পন্থা অবলম্বন করেন অধ্যাপক জাকির। সে কারণে তার উপর ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডে আপন দুই ভাই পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ দুটি পদ। তারা হলেন- ২১ নম্বর ওয়ার্ডের লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত কুনু মিয়ার ছেলে মো. মঈনুল ইসলাম মঈন ও তার আপন ভাই খায়রুল ইসলাম খায়ের। এর মধ্যে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. মঈনুল ইসলাম মঈন সদ্য মনোনীত হয়েছেন। অপরদিকে, তার আপন ভাই খায়ের নির্বাচিত হয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে। একই অবস্থা ২৬ নং ওয়ার্ডে। ওই ওয়ার্ডে জাকির হোসেনের আত্মীয় কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন ও হেলাল বকসের পছন্দের লোকদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে স্থান পেয়েছেন হেলাল বকসের বাসার দায়োয়ান, পান দোকানদার, বাসের হেল্পার। তাছাড়া ২৬ নং ওয়ার্ডে যাদের কোনোদিন দেখা যায় নি দলীয় কর্মসূচীতে অজ্ঞাত, অখ্যাত সেইসব লোকদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করেছেন অধ্যাপক জাকির হোসেন।

ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দ বলছেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়র পদে লড়তে চান অধ্যাপক জাকির হোসেন। ফলে কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে তিনি আওয়ামী আদর্শের বিষয়টিকে জলাঞ্জলী দিয়ে নিজের হীন স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আর এতে করে দলে বাড়ছে বিভাজন, বাড়ছে ক্ষোভ। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয় তোলে ধরে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) বরাবরে অভিযোগও প্রেরণ করা হয়েছে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে মেয়র নির্বাচন, এই সাথে রাজনীতির হালচালে অনেকটা অস্বস্থিতে শাসক দল। তাই বিরোধী দলের সাথে একটা আঁতাত রাজনীতি গড়ে তুলছেন আ. লীগের নেতারা। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে ওয়ার্ড কমিটি গঠনে। সে কারণে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিতর্কের কমিটি হচ্ছে। গঠিত প্রতিটি কমিটিতে মহানগর সেক্রেটারী বির্তকিত হস্তক্ষেপ চরমে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন মহানগর আ. লীগের একাধিক নেতা।

মহানগরীর ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটির সহ-সভাপতি সৈয়দ আতিকুর রব চৌধুরী জুয়েল বলেন,গত ১৩ অক্টোবর নগরীর ৬নং ওয়ার্ডে বিতর্কিত একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরিতাপের বিষয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল গণতান্ত্রিক পন্থায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে যেন প্রতিটি কমিটি গঠনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাদের নেতৃত্ব বেছে নিতে পারেন। কিন্ত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কথিত অধ্যাপক জাকির হোসেন সাহেব নিজের স্থার্থ হাসিল করতে তৃণমূলের ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো মূল্যায়ন না করে তার আত্মীর-স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পকেট কমিটি গঠনে মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। কারণ আগামী সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে অংশ নিতে আগ্রহী । তিনি চাচ্ছেন প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজের আস্থাভাজন নেতৃতৃ নির্ধারণ করতে। এক্ষেত্রে তিনি কোনো কিছুই বাছবিচার না করে অযোগ্যদের পদ দিচ্ছেন। নিজের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে চলেছেন একের পর এক। এমন অবস্থার হাজারো নেতাকর্মীর প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

মন্তব্য জানার জন্য অধ্যাপক জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনে পর পর কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

তবে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি আর মন্তব্যের পর্যায়ে নেই। এই অবস্থায় দলের ওয়ার্কিং কমিটির সভা আহবান করা হয়েছে। সভাশেষে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

 




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020