1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
জৈন্তিয়া নিয়ে ধারাবাহিক : হারানো রাজ্যের গল্প-(১১)
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৯:১২ অপরাহ্ন




জৈন্তিয়া নিয়ে ধারাবাহিক : হারানো রাজ্যের গল্প-(১১)

🛑আসিফ আযহার: >>
    আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ৬:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন

জৈন্তিয়া! এক হারানো সভ্যতার নাম। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের কিছু অঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের কিছু এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছিল এই বৈচিত্রময় সভ্যতা। উত্তরপূর্ব সিলেটের সমতল অঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পর্বতমালার একাংশজুড়ে বিস্তৃত ছিল জৈন্তিয়া রাজ্য। ১১ তম পর্বের লেখায় আজকের প্রসঙ্গ মূলাগুলের যুদ্ধ ও কাছাড় আক্রমণের ইতিহাস। (১০ম পর্বের পর)

খাসিয়া রাজবংশের পঞ্চদশ রাজা প্রথম রামসিংহ যখন জৈন্তিয়ার ক্ষমতায় তখন আসামের রাজা ছিলেন রুদ্রসিং সুখরুংফা। এই রাজা কাছাড় আক্রমণ করে এর রাজধানী মাইবং দখল করে নেন। কাছাড়ের রাজা তাম্রধ্বজ রাজধানী থেকে সরে এসে সমতলের এক নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন এবং জৈন্তিয়ার রাজার সাহায্য কামনা করেন। জৈন্তিয়ার রাজাও সাহায্যের জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। কিন্তু তার আর প্রয়োজন হল না। কারণ- আসামের সৈন্যদের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ায় তারা মাইবং ছেড়ে চলে যায়। কাছাড়ের রাজা সমতলে বসেই জৈন্তিয়ার রাজাকে খবর পাঠালেন যে, সামরিক সাহায্যের আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু জৈন্তিয়ার রাজা এতে অপমান বোধ করে এক বিচিত্র কাজ করে বসলেন।

তিনি তাঁর সৈন্যদেরকে নিয়ে এগিয়ে এসে কাছাড়ের রাজাকেই বন্দী করে ফেললেন। কাজটি করলেন তিনি বেশ কৌশলের সাথে। কাছাড়ের রাজাকে তিনি রাজধানী নিজপাটে এনে বন্দী করে রাখলেন। এ পরিস্থিতিতে কাছাড়ের রাণী আসামের রাজার কাছেই সাহায্য চাইলেন। আসামের রাজাও তাঁর অবস্থান পাল্টে হয়ে গেলেন কাছাড়ের বন্ধু! তিনি জৈন্তিয়ার রাজার কাছে অনুরোধ পাঠালেন যেনো কাছাড়ের রাজাকে ছেড়ে দেওয়া হয়! কিন্তু জৈন্তিয়ার রাজা রামসিংহ এতে কান দিলেন না। ফলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠল।

আসামের রাজা জৈন্তিয়া আক্রমণের জন্য ৪৩০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী পাঠিয়ে দেন। এদের পাশাপাশি দ্বিতীয় আরেক দল সৈন্যও পাঠিয়েছিলেন কিন্তু তাদের সংখ্যা জানা যায় না। আসামের বাহিনী মূলাগুলে এসে উপনীত হলে জৈন্তিয়ার বাহিনীও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন স্থানে কামান পেতে রাখে। যুদ্ধ শুরু হলে জৈন্তিয়াবাসীর বীরত্ব দেখে আসামের বাহিনী চমকে ওঠে। দু’দফায় সংঘটিত যুদ্ধে আসামের ২৩৬৬ জন সৈন্য নিহত হয়। এদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন বেশ উচ্চপদস্থ সামরিক ব্যক্তিত্ব।

অন্যদিকে জৈন্তিয়ার খুব কম সৈন্যই নিহত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০০ জন বন্দী হয়েছিল। আসামের রাজা এই পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে তাঁর আরেক বিশ্বস্ত সেনাপতির নেতৃত্বে আরেকটি বাহিনী পাঠিয়ে দেন। এই মিলিত বাহিনীর আক্রমণে জৈন্তিয়াবাসী পরাজিত হয় ও রামসিংহ বন্দী হন। আসামের কাছে এই পরাজয় জৈন্তিয়ার ইতিহাসের এক মর্মান্তিক অধ্যায়। আসামের সৈন্যরা জৈন্তিয়ার রাজধানী লুটপাট করেছিল বলে জানা যায়। লুটেরা বাহিনী হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যাও করেছিল। অরক্ষিত সাধারণ মানুষদের ওপর তাদের নৃশংসতার মাত্রা ছিল খুবই ভয়াবহ। অসংখ্য সাধারণ প্রজাদের নাক ও কান কেটে দিয়েছিল তারা।

আসামের রাজা সুখরুংফা জৈন্তিয়াকে তাঁর নিজের রাজ্যের অংশে পরিণত করার চেষ্টা করলেন। সিলেটের মোগল ফৌজদার মতিউল্লাহ খানকে তিনি জানালেন যে, জৈন্তিয়া এখন তাঁর রাজ্যেরই অংশ এবং মোগলদের উচিত তাঁর সাথেই বাণিজ্য করা। কিন্তু জৈন্তিয়ায় আসামের রাজার শাসন টিকল না। জৈন্তিয়াবাসী শীঘ্রই বিদ্রোহের সূচনা করল এবং আসামের সৈন্যদের হাত থেকে মাতৃভূমিকে উদ্ধারের জন্য দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলল। এই বিদ্রোহের ফলে আসামের রাজা জৈন্তিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালেন।

কিন্তু জৈন্তিয়ার রাজা প্রথম রামসিংহ তখনও আসামের হাতে বন্দী ছিলেন। বন্দী অবস্থায়ই তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। রাজা প্রথম রামসিংহের মৃত্যুর পর জৈন্তিয়ার রাজা হন তাঁর উত্তরাধিকারী ও ভাগিনেয় জয়নারায়ণ। তিনি জৈন্তিয়াবাসীর পূর্ণ সমর্থন নিয়ে রাজ্যকে আবারও সুসংহত করলেন। তাঁর বিচক্ষণ পররাষ্ট্রনীতি রাজ্যকে আবারও শক্তিশালী করে তোলল। আসামের সাথে বিরোধ মিটিয়ে ফেলে কাছাড়ের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণের পথ প্রশস্ত করলেন তিনি। জৈন্তিয়ার সাথে আসামের যুদ্ধের মূলে ছিলেন কাছাড়ের রাজা ও রাণী।

তাই কাছাড়কে এক হাত দেখে নেওয়ার বিষয়টি জয়নারায়ণ ভুলতে পরলেন না। এজন্য প্রথমে আসামের সাথে মৈত্রী স্থাপন করলেন তিনি। মৈত্রী স্থাপনের অংশ হিসেবে আসামের রাজার সাথে পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপন করলেন তিনি। এতে জৈন্তিয়া ও আসামের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হল এবং কাছাড়ের সাথে আসামের সম্পর্ক আর আগের মতো রইল না। এবার প্রতিশোধ গ্রহণের পালা! জৈন্তিয়ার বাহিনী কাছাড় আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। যথাসময়ে শত্রুপক্ষের ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালাল তারা।

কাছাড়ের বাহিনী এ আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থ হল। এবারের যুদ্ধে কাছাড়ের পক্ষে আসামের সমর্থন না থাকায় জৈন্তিয়াপতি কাছাড়ের বাহিনীকে তুলোধুনা করে ছাড়লেন! জৈন্তিয়ার সৈন্যরা কাছাড়ের রাজধানী মাইবং ধ্বংস করে দেয়। কিছুদিন পূর্বে কাছাড়ের মিত্র হিসেবে আসামের বাহিনী যেভাবে জৈন্তিয়ার রাজধানী লুট করেছিল সেভাবেই জৈন্তিয়ার বাহিনী এবার মাইবং নগরী লুট করল। কাছাড়ের পরাজিত রাজা সমতলে পালিয়ে গিয়ে নতুন একটি রাজধানী স্থাপন করেন।

লেখক
আসিফ আযহার
সিনিয়র সহসভাপতি
জৈন্তিয়া কেন্দ্রীয় ছাত্র পরিষদ
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
কানাইঘাট স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020