1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
টাঙ্গুয়ার হাওরে ভাসছে প্লাস্টিকের বর্জ্য : হুমকীতে ফসল
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪৯ অপরাহ্ন




টাঙ্গুয়ার হাওরে ভাসছে প্লাস্টিকের বর্জ্য : হুমকীতে ফসল

জাকিয়া সুলতানা মনি, তাহিরপুর :
    আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ৯:২৪:২৬ অপরাহ্ন

টাঙ্গুয়ায় হাওরের পানিতে ভাসছে পর্যটকদের ফেলা দেওয়া প্লাস্টিকের বর্জ্য। একইসাথে মানুষের মল, চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল, কাগজের প্যাকেট, প্লাস্টিক থালাসহ অনেক অপঁচনশীল দ্রব্য ফেলা হচ্ছে হাওরে। স্থানীয়রা বলছেন, এতে করে প্রকৃতি ও পরিবেশ ধংস হচ্ছে। যার প্রভাব পড়বে শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধান চাষাবাদেও। তখন কৃষকেরা হবে চরম ক্ষতির শিকার এবং হাওরে মাছের অভাব দেখা দিবে। বোরো আবাদেও এর বিরুপ প্রভাব পড়বে।

জানাযায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি টাংগুয়ার হাওর। এই হাওরকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা (বছরের ছয় মাস বর্ষা ও বাকী ছয় মাস শুষ্ক মৌসুমে দুটি ভাগে) নির্বাহ করলেও অসচেতনতা ও সঠিকভাবে রক্ষনাবেক্ষণের অভাবে টাঙ্গুয়াকে পর্যটন স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই টাঙ্গুয়ার হাওরে চলছে ধ্বংসযজ্ঞ।

সচেতন মহল বলছেন, জীবন জীবিকার অবলম্বন ধান, মাছ ও পানি আগে রক্ষা করতে হবে। না হলে বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়বে।

এদিকে, গত ১৬ জুন থেকে পর্যটক আগমন ও নৌযানে পর্যটকদের পরিবহন করা নিষিদ্ধ থাকলেও গত ৩ আগষ্ট থেকে শর্ত ও রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে শতাধিক নৌযানে পর্যটন পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন।

জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলায় তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে অবস্থিত। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার স্থান হিসাবে পরিচিত, প্রথমটি সুন্দরবন। স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত। কান্দাভর্তি সারি সারি হিজল, করচ আর নলখাগড়ার বন, জলচর পাখি, মাছ, গাছ আর পাখি।

হাওর পাড়ের বাসিন্দা সোলেমান মিয়া জানান, হাওরে যে হারে নৌকা, মিনি জাহাজসহ নানান আধুনিক নৌকা নামানো হচ্ছে আর রাত বিলাসের জন্য যে আয়োজন তাতে শিগগিরই হাওর বিনষ্ট হবে। বর্ষায় নৌযান দিয়ে চলাচলের কারণে আমাদের ঘর বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাওর না বাঁচলে আমরা কেউই বাঁচতে পারব না। কারণ হাওরে মাছ, ধান উৎপাদন হয়।

হাওরে পাড়ের জেলে সুলতান জানান, কয়েক বছর আগেও টাংগুয়ার হাওরের আশপাশে মাছ পেতাম, এখন পাই না। এর কারণ হিসাবে তারা এই অপরিকল্পিত নৌযান চলাচল ও আগত পর্যটকদের কার্যক্রমকেই দায়ী করছেন।

কৃষক জমির মিয়াসহ অনেকেই বলেন, প্লাষ্টিক, কাগজের ঠোংগা, পলিথিনসহ নানান বর্জ্য পানিতে ফেলায় তা নিচে জমিতে গিয়ে জমা হয়। দীর্ঘ দিন থাকায় জমিতে মাটির গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি বছর হাওরের পানি শুকিয়ে গেলে জমিতে এই গুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে আমাদের অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়। হাওর হাওরেই থাকুক পর্যটনের নাম দিয়ে ধংস করার কি প্রয়োজন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির জানান, পর্যটক ও পর্যটকবাহী নৌযানকে হাওর ও হাওরের পরিবেশ রক্ষায় কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে কেউই যেন হাওরের পরিবেশ ধংশ করতে না পারে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলেই আইনানুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আগেও নির্দেশনা অমান্য করায় জরিমানা আদায় করা হয়েছে।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020