1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
দুই এতিম কন্যার বিয়ে দিলেন মৌলভীবাজারের ডিসি
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন




দুই এতিম কন্যার বিয়ে দিলেন মৌলভীবাজারের ডিসি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
    আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ৯:৩৮:২১ অপরাহ্ন

ছোটবেলায় হারিয়ে গিয়েছিলো তারা। বেড়ে ওঠা এতিমখানায়। নেই মা-বাবা, ভাইবোন, স্বজন। একদিন তারা বড় হলো। এবার বিয়েও দেওয়া হলো।

এ এক ভিন্ন আয়োজন। বিয়েতে হাজির জেলা প্রশাসকসহ পুরো জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। এসেছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ। উপহার পাঠিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। বিয়ের অনুষ্ঠান কাভার দিতে হাজির জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ।

বিয়েতে উপহার নিয়ে এসেছেন জেলার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাগণ। প্রায় ৩০০ মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। ছিলো- পোলাও, রোস্ট, গরুর মাংসের রেজালাসহ হরেক রকম আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) দুই অনাথ কনের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর। অভিভাবকহীন দুই কন্যার বিয়ে দিলেন জেলা প্রশাসক নিজেই। জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান দায়িত্ব নিলেন পিতার।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালিত এতিম ও প্রতিবন্ধী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুই কন্যার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সিলেটের ওসমানীনগরের বর আল আমিনের সাথে কনে শাকিলা ইসলাম ও মৌলভীবাজার সদরের কনকপুরের বর মো. সাব্বিরের সাথে কনে নয়ন তারার বিয়ে সম্পন্ন হয়। মা, বাবা ও ঠিকানাহীন এই দুই কন্যাকে বরের হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক । বিবাহিত দুই পরিবারকে নগদ এক লক্ষ টাকা করে মোট দুই লক্ষ টাকা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহ্স্পতিবার দুপুরে বিয়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন- সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মল্লিকা দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানিয়া সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জাহিদ আখতারসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুর রহমান বাবুল।

এর আগে বুধবার রাতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলার পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান বাঁধনসহ জেলার সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিয়ের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসন মীর নাহিদসহ অনেক নেতাকর্মীরা।

অনাথ কন্যা শাকিলা ইসলাম বলেন- ‘নতুন করে একটা পরিবার পাবো। একটা সংসার পাবো। এটা আমার জীবনের জন্য বড়ই আনন্দের।’

অনাথ কন্যা নয়নতারা বলেন- ‘এখানে এতিমখানায় আমার মতো আরো সহ নিবাসী বোনেরা আছে। তারাও যেন সুন্দর একটা সংসার পায়, পরিবার পায়- সে প্রত্যাশা রইলো।’

বর মো. সাব্বির বলেন- ‘আমি জেনেশুনে এতিম মেয়েকে বিয়ে করেছি। একটি সুখী পরিবার, সুখী দাম্পত্য জীবন যেন যাপন করতে পারি।’ একই বক্তব্য দেন বর আল আমিন। ।

শাকিলা ও নয়ন তারার বিয়ে দেখে উৎফুল্ল এই কেন্দ্রে থাকা আরো ত্রিশ চল্লিশটি মেয়েও। তারাও তাদের দুই সহ নিবাসীর জন্য শুভ কামনা জানাচ্ছেন।

এতিম মমতা বেগম বলেন, তাদের দুই জনের বিয়ে হচ্ছে দেখে আমরা আনন্দিত। আমরা আশা করছি আমরা এখানে যারা আছি, তারা এভাবে নতুন করে জীবন ফিরে পাবো। আমরা আমাদের পরিবার হারিয়েছি। কিন্তু নতুন করে আবার বাঁচতে পারবো।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘এরা আমার মেয়ের মত। তাদের বিয়েতে যাতে কোনো ধরনের কমতি না হয়, এজন্য সব আয়োজন করা হয়। দুই মেয়ের অনুষ্ঠানে তিন শতাধিক অতিথির জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। জেলা সর্বস্তরের মানুষ এ বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আমার দুই কন্যার জন্য দোয়া করেছেন।’

মিজানুর রহমান বলেন, যখন বিয়ের প্রস্তাব আসে, তখন পাত্র পক্ষ ও পাত্রী উভয়ের মতামত আমরা নিয়েছি। আমার শাকিলা সেলাই শিখেছে আর নয়ন তারা সেলাই ও ড্রাইভিং জানে। তারা যেমন সুন্দর তেমনি দক্ষও। আমরা আজ সুন্দরভাবে তাদের নব বিবাহিত জীবনের পদার্পন করে দিলাম।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রশিক্ষক মো. শামীমুর রহমান বলেন, ‘দুই তরুণী সিলেট সমাজসেবা পরিচালিত শিশু পরিবার থেকে দুইবছর হল এখানে এসেছে। নয়নতারা টেইলারিং ও শাকিলা ড্রাইভিং শিখেছে। পাশাপাশি বর আলআমিন টিউবওয়েল মিস্ত্রি এবং সাব্বির সিএনজিচালিত আটোরিকশার চালক।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ‘একজন পিতা তার কন্যাদের যেভাবে বিয়ে দেন, তেমনি এ কন্যাদের পিতা হিসেবে একজন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মতো আমি তাদের বিয়ে দিচ্ছি। সকল নিয়ম, সকল আনুষ্ঠানিকতায় এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুই নবদম্পতিকে এক লক্ষ করে মোট দুই লক্ষ টাকা উপহার দেওয়া হয়েছে।’




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020