1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
বন্যায় যেভাবে পাল্টেছে নাগরিক জীবনচিত্র
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০১:২৯ অপরাহ্ন




বন্যায় যেভাবে পাল্টেছে নাগরিক জীবনচিত্র

স্টাফ রিপোর্ট
    আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২২, ৩:৪৫:২৫ অপরাহ্ন

ব্যাংকার সোয়েব আহমদ প্রায় একযুগ ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করছেন নগরীর অভিজাত এলাকা উপশহরে। ই-ব্লকের এই বাসায় দুই দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন তিনি। বাসার মূল্যবান আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ প্রায় তিন লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে বন্যার মধ্যেই গেল ২২ জুন বাসা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। শুধু সোয়েব আহমদই নয়, বাসা বদল করার তাগিদ বোধ করছেন উপশহরের বিভিন্ন ব্লকে থাকা অন্যান্য ভাড়াটিয়ারাও। চলতি দুই দফা বন্যার ধকল সইতে না পেরে বাসা বদলের হিড়িক পড়েছে নগরীর উপশহর আবাসিক এলাকার। এর ফলে উপশহরস্থ বিভিন্ন বাসার মালিকরা রয়েছেন আর্থিক ঝুঁকির মুখে। এতে করে ভাড়াটিয়া এবং বাসা মালিকদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষভাবে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চালের মানুষের মাঝে এই উদ্বেগ রীতিমতো শংকায় পরিণত হয়েছে। এবারের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদী তীরবর্তী স্থান ও নিম্নাঞ্চলসহ সিলেট নগরীর একটি বড়ো অংশ পানিতে নিমজ্জিত হয়। নগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহজালাল উপশহরের প্রায় সব ক’টি ব্লক পানির নিচে তলিয়ে যায়। তুলনামূলকভাবে নিচু ব্লকগুলোর বাড়িঘরের নিচ তলা নিমজ্জিত হয় বন্যার পানিতে। বাসার সামনে ও রাস্তায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর আবার কোথাও বুক সমান পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এ অবস্থায় উপশহরের অধিকাংশ বাড়িঘরের নিচ তলায় বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ লোকজন বাসা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় গ্রহণ করেন। শুধু শাহজালাল উপশহর নয় শহরের অন্যান্য নিচু এলাকাগুলোর বাড়িঘরের বাসিন্দাদেরও একইভাবে ঘরদোর ত্যাগ করতে হচ্ছে।

এদিকে উপশহর এলাকার বিভিন্ন রোড থেকে প্রতিদিনই কেউ না কেউ বাসা বদল করার দৃশ্য এখন নিত্যকার ঘটনা। ফলে শঙ্কায় আছেন বাসা মালিকরা। যারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখানে বাসাবাড়ি তৈরি করেছেন ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে, তারা এখন মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। এ অবস্থায় সিলেট নগরীর বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের বসবাসের ক্ষেত্রে উদ্বেগ এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে নগর রক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এগিয়ে আসার আহবান অভিজ্ঞজনদের। অন্যথায় আগামী বছরগুলোতেও বর্ষাকালে এক বা একাধিক বন্যার কবলে পড়ে নাস্তানাবুদ হতে হবে নগরবাসীকে। বরণ করতে হবে অপূরণীয় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি।

সিলেটে চলতি এপ্রিল মে ও জুন মাসে তিনবার বন্যা হয়। এর মধ্যে ২য় ও তয় দফায় বন্যার পানি ধারণার চেয়েও অধিক দ্রুতগতিতে বাড়িঘর দোকানপাট ও মার্কেটে প্রবেশ করায় অগণিত বাসা বাড়ির আসবাব ও জিনিসপত্র পানিতে ডুবে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায়। অসংখ্য দোকানের চাল-ডাল চিনিসহ নানা পণ্য একইভাবে পানিতে নষ্ট হয়। এভাবে বাসাভাড়ির লোকজন ও মার্কেট-দোকানপাটের ব্যবসায়ীদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। বর্তমানে নগরীতে বন্যার পানি প্রায় নেমে গেলেও এই ক্ষয়ক্ষতির জের এখনো রয়ে গেছে। এটা কাটিয়ে ওঠতে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে অত্যন্ত বেগ পেতে হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হয়তো কখনোই তাদের মারাত্মক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে পারবেন না। এভাবে এবারের আকস্মিক বন্যায় বহু সচ্ছল লোক ব্যবসার পণ্য পুঁজি ও সম্পদ হারিয়ে দরিদ্র হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এসব বন্যা পীড়িত বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা এখনো কোন সরকারি আর্থিক সহায়তা পাননি। সরকারেরও এ ব্যাপারে তেমন কোন পরিকল্পনা আছে বলেও জানা যায়নি।

এবার সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও সিলেট নগরী ও নগরীর উপকণ্ঠের জনপদগুলো চালচিত্র বদলে দিয়েছে। আগামীতে শহর বা নগর রক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে নগরীর অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড়ো ধরণের ধস নামতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, শাহজালাল উপশহরের কোটি কোটি টাকা মূল্যের বাড়িঘরগুলো অনেকে আর ভাড়া নিতে আগ্রহী নাও হতে পারে। যারা ভাড়াতে হিসেবে আছেন, তারা বর্ষা মৌসুমে এসব বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে পারেন।

 




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020