1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
বসন্তের বাসন্তী কথা
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১২ অপরাহ্ন




বসন্তের বাসন্তী কথা

প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী
    আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২, ১১:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন

কবির ভাষায়-ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত । কিন্তু আজ ফুল ফুটেছে আর জানান দিয়েছে বসন্ত ঋতু আমাদের মাঝে হাজির । প্রকৃতি আজ দখিণা দুয়ার খুলে দিয়েছে আর সে দুয়ারে বইছে ফাগুনের হাওয়া । বসন্তের আগমনে কোকিল গাইছে গান । ভ্রমরও করছে খেলা । গাছে গাছে পলাশ শিমুলের মেলা ।
আজ পহেলা ফাল্গুন । ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন । ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির আজ এত বর্ণিল সাজ । বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সঙ্গে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা । সব কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে বিভেদ ভুলে নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের উপস্থিতি । ফাগুনের মাতাল হাওয়া দোলা দিয়েছে বাংলার নিস্বর্গ প্রকৃতিতে । নতুন রূপে প্রকৃতিকে সাজাবে ঋতুরাজ বসন্ত ।

ফুলেল বসন্ত, মধুময় বসন্ত, যৌবনের উদ্দামতা বয়ে আনার বসন্ত আর আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্বেলতায় মনপ্রাণ কেড়ে নেয়ার আজ প্রথম দিন । ফাগুনের আগুন যে মনে ধরছে তা প্রকৃতির চিত্রপটেই বোঝা যাচ্ছে ।
মৃদু মৃদু বাতাস শীতের রুক্ষতা দূর করে মনকে উদাস করে দিচ্ছে । বছর ঘুরে আবারও ফাল্গুনের দেখা । ষড় ঋতুর বাংলায় বসন্তের রাজত্ব একেবারে প্রকৃত সিদ্ধ । ঋতুরাজ বসন্তের বর্ণনা কোনো রংতুলির আঁচড়ে শেষ হয় না । কোনো কবি-সাহিত্যিক বসন্তের রূপের বর্ণনায় নিজেকে তৃপ্ত করতে পারেন না । তবুও বসন্ত বন্দনায় প্রকৃতিপ্রেমীদের চেষ্টার যেন অন্ত থাকে না । ফাগুনের আগুনে, মন রাঙিয়ে বাঙালি তার দীপ্ত চেতনায় উজ্জীবিত হবে ।

বাঙালির ইতিহাস আবেগের । এ আবেগ যেমন মানুষে মানুষে, তেমনি মানুষের সঙ্গে প্রকৃতিরও বটে । দিনক্ষণ গুনে গুনে বসন্ত বরণের অপেক্ষায় থাকে বাঙালি । কালের পরিক্রমায় বসন্ত বরণ আজ বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম উৎসব । আবাল-বৃদ্ধ, তরুণ-তরুণী বসন্ত উন্মাদনায় আজকে মেতে উঠবে । শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়েই বসন্ত বরণে চলবে ধুম আয়োজন । শীত চলে যাবে রিক্ত হস্তে, আর বসন্ত আসবে ফুলে ফুলে ডালা সাজিয়ে । বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাবে শীতের জরা-জীর্ণতা । বসন্তকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলায় মেলা, সার্কাসসহ নানা বাঙালি আয়োজনের সমারোহ থাকবে । ভালোবাসার মানুষ মন রাঙাবে বাসন্তী রঙেই ।

শীতের সঙ্গে তুলনা করে চলে বসন্তকালের পিঠা উৎসবও । প্রাচীন আমল থেকেই বাংলার এই অঞ্চলে বসন্ত উৎসব পালিত হচ্ছে । এ বিষয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা মনে করেন- বসন্ত উৎসবের ইতিহাস বেশ পুরনো । হিন্দুদের পৌরাণিক উপাখ্যান ও লোককথাগুলোতেও এই উৎসবের উল্লেখ পাওয়া যায় । হিন্দু বৈষ্ণবরা এ উৎসব বেশ আয়োজন করে পালন করে থাকেন । আর এই উৎসব বিভিন্ন নামে পরিচিত । যেমন- দোল, দোলপূর্ণিমা, হোলি । বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনি পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন । সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয় । অবশ্য শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্ত উৎসব পালনের রীতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে ।

পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব কেবল উৎসবে মেতে ওঠার সময় নয় । এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালিসত্তা । সে ঐতিহ্যের ইতিহাসকে ধরে রাখতে পারলেই বসন্ত উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে পারবে বাঙালি চেতনাকে । বসন্ত শুধু অশোক-পলাশ-শিমুলেই উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের স্মৃতির উপরও রং ছড়ায় । ১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে । বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে । বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের এ উৎসব এখন গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত ।

বাংলায় বসন্ত উৎসব এখন প্রাণের উৎসবে পরিণত হলেও এর শুরুর একটা ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে, যা অনেকের অজানা । মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে । নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি । এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব । তখন অবশ্য ঋতুর নাম এবং উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না । তখনকার আর এখনকার ফাল্গুনের এই উৎসব একদম ভিন্ন । গ্রামে গ্রামে যে আয়োজন হতো তাতে আতিসাজ্যের কোনো সুযোগ ছিল না । আর এখন, সব আয়োজনে খাবার থেকে বিনোদন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে বড্ড বাড়াবাড়ি রকমের লোক দেখানো । মমতা মাখানো মা খালাদের পিঠা পুলি পরিবেশনা যেখানে গ্রামের সব বয়সী শিশুদের অবাধ নিমন্ত্রণ সেই উৎসব এখন বইয়ের পাতাতেও পাওয়া যাবে না । কালের বিবর্তনে আমরা আধুনিক হয়েছি ঠিকই কিন্তু আমাদের বাঙালি সত্বা আজ প্রশ্নবিদ্ধ ।

শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে । মৃদুমন্দা বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা । লাল আর হলুদের বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা, উন্মাদনায় ভাসবে বাঙালি । তরুণীরা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে প্রকৃতির কোলে নিজেকে সপে দিতে চাইবে । অপরদিকে বসন্তের উদাস হাওয়ায় তরুণেরা নিজেকে প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির মন কাড়তে চাইবে । বসন্ত যেন মানব মন আর প্রকৃতির রূপ প্রকাশের এক অপূর্ব লীলা-খেলা ।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020