1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
বাংলাদেশে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাপ রাশিয়ার
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৮:৫১ অপরাহ্ন




বাংলাদেশে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাপ রাশিয়ার

বাংলানিউজ২৪এনওয়াই ডেস্ক
    আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ৩:১১:৩৭ অপরাহ্ন

ইউক্রেইনে যুদ্ধ বাঁধানোর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা রাশিয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশকে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে এখন তেল কেনার দরকার আছে কি না, তা তারা পর্যালোচনা করে দেখছেন।

সোমবার বিদ্যুৎ ভবনে একটি কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে কথা বলে প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “রাশিয়ার পক্ষ থেকে তেল বিক্রির প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে ক্রুড অয়েলের কথা বলছে তারা। আমরা সেই প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছি।”

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া আগে প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত, যার অর্ধেকের বেশি যেত ইউরোপে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা একের পর এক অবরোধ আরোপ শুরু করে রাশিয়ার ওপর।

এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়।

নিষেধাজ্ঞার মুখে অন্য ক্রেতারা রুশ তেল কেনা থেকে পিছু হটলেও বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাপক মূল্য ছাড়ে তাৎক্ষণিক টেন্ডারের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে বাড়তি তেল কেনা শুরু করে। চীনও আবার রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে বলে খবর এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

এমনিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেল কিনতে অন্য দেশের বাধা নেই। তবে ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে রাশিয়া থেকে ভারতের অতরিক্ত তেল কেনার বিষয়টি যে যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবে নেয়নি, তা স্পষ্ট করেই বলেছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দাম পরিশোধ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সুইফটে নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারে দাম পরিশোধ সম্ভব না। আর রাশিয়াও অনেক দেশের ক্ষেত্রে রুবলে দাম পরিশোধের শর্ত দিচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রস্তাবে ঠিক কী আছে, কত দরে কী পরিমাণ তেল রাশিয়া দিতে পারবে, মূল্য পরিশোধইবা কীভাবে হবে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।

যুদ্ধ শুরুর পর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিতি জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও এখন তা কিছুটা কমে এসেছে। দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারতে শুল্ক ছাড় দিয়ে জ্বালানির দাম কমানো হয়েছে।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে জ্বালানির দাম কমানোর চিন্তা আছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা জ্বালানির দামটা স্থিতিশীল রাখতে চাই। বাড়াতেও চাই না, কমাতেও চাই না। দাম যতটুকু কমেছে, তাতে করে এখনই সমন্বয় করার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।”

বাংলাদেশ বর্তমানে প্রতি বছর ৫০ লাখ টন ডিজেল, ১৩ লাখ অপরিশোধিত তেল, দুই লাখ টন ফার্নেস অয়েল এবং ১ লাখ ২০ হাজার টন অকটেন আমদনি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকি দিয়ে দেশের বাজারে বিক্রি করতে সরকারকে প্রতিদিন ১৫ কোটি ডলারের ওপর লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে গত মার্চের শেষে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জনগণের ওপর থেকে জ্বালানি খরচের চাপ কমাতে তরল জ্বালানির পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন চালু করা উচিত।

“এখন বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলারগুলো চলছে। এগুলো জনগণকে খরচের ব্যাপারে স্বস্তি দিচ্ছে। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহন চালানোর উদ্যোগ নিতে হবে। রেল বিভাগ চাইলে বৈদ্যুতিক ট্রেনও চালু করতে পারে।”

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগামী বছর আমাদের বেশ কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমরা বেশ কয়েকটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে পারব। এতে খরচ সাশ্রয় হবে।”

চলমান ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “সেই সমস্যা এখন কেটে গেছে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো রাষ্ট্রীয় কেনাকাটায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার ছাড় দিতে বাধ্য। আমরা যে ব্যাংক থেকেই এলসি খুলতে চাই, বাংলাদেশ ব্যাংক সেই ব্যাংকের ডলারের যোগান দিতে বাধ্য। বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে।”

তবে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র পরিবহনে জাহাজ সংকট জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020