1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
মহিষের দুধের উৎপাদন বাড়াতে এবার ৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন




মহিষের দুধের উৎপাদন বাড়াতে এবার ৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক:
    আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ৯:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন

মহিষের দুধের উৎপাদন বাড়াতে এবার ৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের ৮ বিভাগের ১২ জেলার ১২ উপজেলায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহিষের দুধের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়াও দেশে উৎপাদিত শংকর জাতের মহিষের উৎপাদনশীলতা যাচাই ও বাচ্চা উৎপাদন বাড়বে। দেশীয় আবহাওয়ায় পোষ মানানোর লক্ষ্যে বিশুদ্ধ শংকর জাতের মহিষের সেলেকটিভ ব্রিডিং কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে এবং লাভজনক মহিষ পালন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে ন্যূনতম ৫টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও খামারি পর্যায়ে যুক্ত করা যাবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের আওতায় ঢাকা জেলার সাভার, রাজশাহী বিভাগের আওতায় রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী, ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ, চট্টগ্রাম বিভাগের আওতায় চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা, কুমিল্লা সদর, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ, বরিশাল বিভাগের আওতায় ভোলা জেলার চরফ্যাশন, পটুয়াখালী জেলার বাউফল, সিলেট বিভাগের আওতায় সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ, রংপুর বিভাগের আওতায় রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া এবং লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন’ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাইতে শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন কাজ শেষ হবে। গত ২৫ আগস্ট সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ের পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানান, প্রকল্পটি সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিএলআরআই-এর গবেষণাগারের সক্ষমতা বাড়াবে, মহিষের জন্য শেড নির্মাণ করা হবে। খামারি পর্যায়ে অধিক দুধ উৎপাদনক্ষম দেশি নদীর মহিষের কমিউনিটি নিউক্লিয়াস গঠন করা হবে। কমিউনিটি নিউক্লিয়াস থেকে ১৫টি ষাঁড় বাছুরকে ক্যান্ডিডেট বুল হিসেবে নির্বাচনপূর্বক সিমেন সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বাছাইকৃত গাভীতে কৃত্রিম প্রজনন করা করা হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কর্তৃক কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় উৎপাদিত শংকর জাতের মুররাহ দেশি মহিষের উৎপাদন দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। মহিষের জাত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মহিষের নিউক্লিয়াস হার্ভে প্রাণী জীবপ্রযুক্তি, যেমন- কৃত্রিম প্রজনন, ভ্রূণ উৎপাদন, মার্কার অ্যাসিস্টেড সিলেকশন, ইস্ট্রাস-সিনক্রোনাইজেশন ইত্যাদি অভিযোজন করা হবে। মহিষের উপযুক্ত চারণভূমি ব্যবস্থাপনা, হাউজিং পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কৌশল উন্নয়ন করা হবে। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্য খাদ্য উপাদান ব্যবহার করে বাড়ন্ত ষাঁড় ও বকনা এবং দুগ্ধবতী ও গাভী মহিষের উপযুক্ত রেশন তৈরি করা হবে। মহিষের রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যালোচনা, গলাফোলা রোগ নির্ণয়, রোগ নিয়ন্ত্রণ মডেল ও গুরুত্বপূর্ণ রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়ন করা হবে। এছাড়াও মহিষের দুধ থেকে দই, রসমালাই এবং পনির তৈরির এসওপি উন্নয়নসহ দুধের সংরক্ষণকাল বৃদ্ধির কৌশল উদ্ভাবন করা হবে। স্বাস্থ্যসম্মত মহিষ হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রযুক্তি বের করা হবে এবং প্রচলিত পালন ব্যবস্থাপনায় মহিষের আয়-ব্যয়ের তুলনামূলক মূল্যায়ন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রাণিসম্পদ সাব-সেক্টরের উন্নয়নের জন্য অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাণিসম্পদ প্রতিপালনে নিয়োজিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আয় বাড়ানো পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে টেকসই উন্নয়ন করা। এক্ষেত্রে এই প্রকল্পের আওতায় দেশি নদীর মহিষের জাত উন্নয়ন, দেশের স্থানীয় শংকর জাতের মহিষের উৎপাদনশীলতা যাচাই ও বাচ্চা উৎপাদন, শংকর জাতের মহিষের সিলেকটিভ ব্রিডিং কার্যক্রম গ্রহণ এবং লাভজনক মহিষ পালন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও খামারি পর্যায়ে অভিযোজনের মাধ্যমে দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বিধায় প্রকল্পটি ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহিষের দুধ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে। একইসঙ্গে মহিষের জাত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত শংকর জাতের মহিষের উৎপাদনশীলতাও বাড়বে। ফলে, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রকল্পটি অবদান রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালেও সরকার দুধ উৎপাদন, মাংস উৎপাদন এবং ভারবহন এই তিন কাজে কাজী নামে পরিচিত মহিষের জাত উন্নয়নে ১৬২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার অরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। যার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর একনেকে অনুমোদিত “মহিষ উন্নয়ন (২য় পর্যায়)” শীর্ষক নামে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৬২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ওই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের ৮টি বিভাগের ৪৯টি জেলার ২০০টি উপজেলায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে। এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে “মহিষ উন্নয়ন” শীর্ষক (প্রথম পর্যায়) একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

উল্লেখ্য, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের গত ৫ বছরের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৫০ কোটি লিটার দুধের চাহিদা থাকলেও এ বছরে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ২৯৪ কোটি ৭০ লাখ লিটার। পরের বছরে ২০১১-১২ অর্থবছর সমপরিমাণ চাহিদা থাকলেও ৫ কোটি লিটার বেশি উৎপাদিত হয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে চাহিদার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৯১ কোটি ৫৬ লাখ লিটারে। ওই বছর দুধ উৎপন্ন হয় মাত্র ৫০৭ কোটি ৭০ লাখ লিটার। পরের বছর ৬০৯ কোটি ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৮ লিটার দুধ উৎপাদন হলেও ওই বছর চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪০১ কোটি ৬০ লাখ লিটার। গত অর্থবছরে দুধের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪২৮ কোটি ১০ লাখ লিটারের। ওই বছরে উৎপন্ন হয় ৬৯৬ কোটি ৮৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৮ লিটার।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৪৪ হাজার ৬১৮ লিটার দুধ উৎপন্ন হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৬০ হাজার ৭৩৩ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়।

অধিদফতরের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের এপ্রিল-জুনে লক্ষ্যমাত্রা ১.৬৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন থাকলেও উৎপাদিত হয়েছে ১.০৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধ। ওই সময়ে দুধ উৎপাদনের হার ছিল ৪৮.৬০ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার দিক দিয়ে ২০.৬৯ শতাংশ হারে উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও চাহিদা রয়েছে আরও ব্যাপক। দুধের উৎপাদন ত্বরান্বিত করার জন্য মহিষ উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। এরপরও বিদেশ থেকে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার গুঁড়াদুধ আমদানি করতে হয়।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020