1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
মুকুটকে অব্যাহতি না কি বহিস্কার-প্রশ্ন বিক্ষুব্ধদের
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন




মুকুটকে অব্যাহতি না কি বহিস্কার-প্রশ্ন বিক্ষুব্ধদের

স্টাফ রিপোর্ট::
    আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২৭:২০ অপরাহ্ন

জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতি। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় সোমবার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক দলের জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতিকে নুরুল হুদা মুকুটকে অব্যাহতি প্রদানের কথা গণমাধ্যমে জানানো হয়।

এ সংবাদ প্রচারের পর থেকে জেলার তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে জেলা দপ্তর সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্বল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে গঠনতন্ত্রের ৪৭ (১১) ধারা বলে জেলা সিনিয়র সহ সভাপতি নুরুল হুদা মুকুটকে দলীয় সকল পদবী থেকে বহিস্কার করা হলো।

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের বক্তব্য, দলীয় দুর্যোগে, কর্মসূচিতে এবং মাঠের রাজনীতি এবং আন্দোলন সংগ্রামে যিনি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রাণভোমড়া, সেই নেতাকে অগনতান্ত্রিক ভাবে অব্যাহতি ঘোষণা কখনোই ভালো ফল বয়ে আনবে না। তাছাড়া অব্যাহতি কিংবা বহিস্কার এর কোনোটাই জেলা কমিটির এখতিয়ার বহির্ভুত।

এর আগে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন স্বাক্ষরিত একটি ‘অব্যাহতিপত্র’ নূরুল হুদা মুকুটটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা অমান্য করার কারণে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদসহ দলীয় সকল পদ-পদবী থেকে তাঁকে ‘অব্যহতি’ প্রদান করা হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।

দলের ৪৭ (১১) ধারার ঙ তে বলা হয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারণ দর্শাইবার জন্য সুযোগদানের উদ্দেশ্যে যুক্তিসংগত সময় দিয়া সাধারণ সম্পাদক পোষ্টাল রেজিস্ট্রেশনযোগে নোটিস দিতে বাধ্য থাকিবেন।

(চ) সংগঠনের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তি প্রদানের জন্য আওয়ামী লীগের নিম্নতম যে কোনো শাখা বা যে কোনো সদস্যের লিখিত অভিযোগপত্র পাওয়ার পর উপজেলা/থানা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ নিজেদের সিদ্ধান্তসহ উক্ত অনুরোধপত্র জেলা কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট পাঠাইবেন। জেলা কার্যনির্বাহী সংসদ এ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়া উক্ত বিষয় বিবেচনাপূর্বক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট প্রেরণ করিবেন। ইহা ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ স্বয়ং সংগঠনের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবশ্যকতা বোধ করিলে জেলা কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত আপন করিয়া বিষয়টি বিবেচনাপূর্বক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট প্রেরণ করিবে।

(ছ) প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার ক্ষমতা কেবল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের থাকিবে। তবে এক্ষেত্রে ধারা ১৭(১)-এর বাতায় ঘটিবে না।

কিন্তু ধারা লঙ্ঘন করে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূরুল হুদা মুকুটকে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক সরাসরি ‘অব্যাহতি’ প্রদান করা হয়েছে। এ জাতীয় পদক্ষেপ কেন্দ্রর এখতিয়ারের মধ্যে থাকলেও এক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি।

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলছেন, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি পদমর্যাদার একজন নেতাকে কেন্দ্রের পরিবর্তে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক সরাসরি অব্যাহতি প্রদান করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে।

এদিকে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক এমন কর্মকাণ্ডকে ‘অগঠনতান্ত্রিক’ ও ‘ছেলেমানুষিসূলভ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মুকুট। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে যারা নিজস্ব ও পারিবারিক ফায়দা হাসিলের উৎসস্থল মনে করে, এটি তারই একটি প্রমাণ। তিনি বলেন, এটি মেনে নিতে পারিনি বলেই বারবার দলের স্বার্থে, আওয়ামী আদর্শের স্বার্থে এই চক্রের ঘৃন্য কার্যকলাপ বারবার প্রতিবাদ করে আসছি। দলকে কখনোই নিজের হীন স্বার্থের কাছে বিক্রি করিনি বলেই সুনামগঞ্জে আওয়ামী আদর্শে উজ্জীবিত ত্যাগী নেতাকর্মীরা বরাবরই আমার উপর তাদের আস্থা ও নির্ভরতা প্রকাশ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমার বিজয়কে ভরাডুবি ঘটাতে এই অপশক্তি ‘অব্যাহতি’ নাটক সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সুনামগঞ্জের জনগন তাদেরকে যথাসময়ে সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চলমান নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমনের বড়ভাই।

অন্যদিকে, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের অপর সহ-সভাপতি ও গেল নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট। দলীয় রাজনীতিতে মুকুটের সাথে চরম দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে ইমনের। গেল জেলা পরিাষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মুকুটের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন ইমন।

এদিকে নুরুল হুদা মুকুট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এমন সংবাদে আমি বিস্মিত। তাঁদের এরকম বক্তব্য ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক, অগঠনতান্ত্রিক ও এখতিয়ার বহির্ভূত। মূলত আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁরা এরকম অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন ব্যতিরেকে জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা কমিটির কোনো সদস্যকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের এখতিয়ার রাখেন না। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেবল কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির হাতে রয়েছে। মুকুট আরো বালেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন অতীতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে সক্রিয়ভাবে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধাচারণ করেছেন। এমনকি বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা সভাপতি মতিউর রহমান সাহেব ও আমার জন্য প্রকাশ্যেই কাজ করেছেন। কমিটির সদস্যদের মতামত নিয়ে সভাপতি ও সাধরণ সম্পাদকের অগঠনতান্ত্রিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠাবেন বলে জানান মুকুট।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের নির্দেশেই নূরুল হুদা মুকুটকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই দাবি করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমানও।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, মুকুটকে অব্যাহতি প্রদান প্রসঙ্গে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমি জানি না তারা কি করছে না করছে।

বিষয়টি গঠনতান্ত্রিক কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা প্রশ্নের উত্তর আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করব। আগে চিঠিটা হাতে আসুক। তারপর বলতে পারব।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020