1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
মৌলভীবাজারে সরকারি ২৮ কোটি টাকার জমি উদ্ধার
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন




মৌলভীবাজারে সরকারি ২৮ কোটি টাকার জমি উদ্ধার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
    আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ৬:৪২:২৬ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ৩৮১ কিলোমিটার সড়কের ১ হাজার ৫শ ৩৫ একর জমির মধ্যে প্রধান প্রধান সড়ক সংলগ্ন বেশিরভাগ ভূমি জবরদখলের আওতায় রয়েছে। জেলা শহরের বেড়িপাড়, শাহমোস্তফা সড়ক ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রীমঙ্গল পৌর শহর, কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজার, শমসেরনগরবাজার, কুলাউড়া উপজেলার কুলাউড়া পৌরশহর, বড়লেখা উপজেলা সদর, জুড়ী উপজেলা সদরসহ আরো বেশ ক’টি বাজারে সড়ক বিভাগের কমপক্ষে আরো প্রায় ৫০ একর জমি জবরদখলের আওতায় রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য হবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।

মৌলভীবাজার শহরের বেড়ির পাড়, শাহমোস্তফা সড়কসহ পুরো জেলাজুড়ে সড়ক বিভাগের জমি জবরদখল করে আধাপাকা ও পাকা স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩টি বাজারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৮ কোটি টাকার জমি উদ্ধার করা হলেও সিংহভাগ জমি এখনো অধরাই রয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব জমি যারা দখল করেছেন তারা প্রত্যেকেই কেউ না কেউ স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের।

মৌলভীবাজার সওজ জানায়, জেলাজুড়ে তাদের ৩৮১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের কাছে থাকা এতো জমি উদ্ধারের পরিকল্পনা তাদের থাকলেও লোকবলের অভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু জমি উদ্ধার করা হলেও জনশক্তি না থাকার কারণে আবার সেই জমি ধীরে ধীরে জবরদখলের আওতায় চলে যায়। মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগ আরো জানায়, তাদের অধীনে সদর সড়ক উপ-বিভাগ, কুলাউড়া উপ-বিভাগ, শ্রীমঙ্গল উপ-বিভাগ ও মেকানিক বিভাগসহ মোট ৪টি বিভাগ রয়েছে।

জেলা ও উপ-বিভাগ মিলিয়ে এ দফতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদের ৪ জনের মধ্যে ৪ জনই নেই। উপ-সহকারি প্রকৌশলী পদের ১৩ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। এছাড়াও সহকারি প্রকৌশলী, প্রাক্কলনকারী, ওয়ার্ক সুপারভাইজার, প্রধান করণিক ও সিনিয়র একাউন্টস্সহ ২৭ পদের ১২২ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩ জন। ৫টি দফতরের মধ্যে ৮৯ জনই নেই।

এদিকে, সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার সরকারবাজার, শেরপুর ও রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজারে ৫ একর ৬৫ শতক ভূমি উদ্ধার করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। উদ্ধারকৃত জমির মূল্য প্রতি শতক ৫ লাখ টাকা করে নির্ধারণ করে স্থানীয়রা বলেন, তাদের হিসেবে ৫ একর ৬৫ শতক অথবা ৫শ ৬৫ শতক ভুমির মূল্য ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, এসকল বাজারে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও ফের জবরদখল করছে স্থানীয় ভূমিখেকোরা।

জেলা শহরের বেড়িপাড়, শাহমোস্তফা সড়ক ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রীমঙ্গল পৌর শহর, কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজার, শমসেরনগরবাজার, কুলাউড়া উপজেলার কুলাউড়া পৌরশহর, বড়লেখা উপজেলা সদর, জুড়ী উপজেলা সদরসহ আরো বেশ ক’টি বাজারে সড়ক বিভাগের কমপক্ষে আরো প্রায় ৫০ একর জমি জবরদখলের আওতায় রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য হবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। সড়ক বিভাগ পুরো জবরদখলের পরিসংখ্যান না দিলেও এতো টাকার জমি বেদখলে রয়েছে এমনটা স্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্র আরো জানায়, জেলা শহরের বেড়িরপাড় ও জুড়ি উপজেলায় চলমান মামলা থাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে জুড়ী উপজেলায় যারা অবৈধ দখল করে স্থাপনা তৈরি করতে চেয়েছিল। এখন ওই স্থাপনার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এমনটা জানিয়েছে সওজ।

জেলা সড়ক বিভাগের কার্য সহকারি মোঃ আমানত খান চৌধুরী বলেন, জনশক্তি ঘাটতি পুরণে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে একাধিবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা।

জেলা সড়ক বিভাগের সার্ভেয়ার হিটলার চাকমা জানান, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বেদখলে থাকা জমি পর্যায়ক্রমে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কিছুটা উদ্ধার করছি। তিনি বলেন, তাদের জমি উদ্ধার করা হলেও লোকবল সংকটের কারণে আবার বেদখলে চলে যায়।

মৌলভীবাজার সওজ’র নির্বাহি প্রকৌশলী মোঃ জিয়া উদ্দিন জানান, শহরের বেড়িরপাড়সহ জেলাজুড়ে তাদের ৩৮১ কিলোমিটার সড়ক মিলে ১ হাজার ৫শ ৩৫ একর জমি রয়েছে। ইতিমধ্যে তারা সদর উপজেলাস্থ মৌলভীবাজার-শেরপুর সড়কের সরকারবাজার, শেরপুরবাজার ও রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজারে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে তাদের ৫ একর ৬৫ শতক ভূমি উদ্বার করেছেন। সড়ক বিভাগের জবরদখলে থাকা সিংহভাগ জমি কেন উদ্ধার করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই নির্বাহি প্রকৌশলী বলেন, তাদের দফতরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, উপ-সহকারি প্রকৌশলী ও সহকারি প্রকৌশলীসহ ৫ দফতরে ৮৯ জনই কর্মরত নেই। ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম শতভাগ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020