1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
যে কারণে শাবিপ্রবি ছাত্র বুলবুল হত্যাকাণ্ড
রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন




যে কারণে শাবিপ্রবি ছাত্র বুলবুল হত্যাকাণ্ড

স্টাফ রিপোর্ট::
    আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ৫:২৪:০০ অপরাহ্ন

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যাকাণ্ড মূলত ছিনতাইকে কেন্দ্র করে। এমন তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আজবাহার আলী শেখ। বুধবার (২৭ জুলাই) বুলবুল হত্যাকাণ্ড বিষয়ে জালালাবাদ থানায় এক প্রেসব্রিফিং কালে এমন তথ্য জানান। এর আগে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় তিন জনকে। গ্রেপ্তার তিন জনই খুনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রেসব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়। গ্রেপ্তার তিন জন হলেন শাবির পেছনের টিলাগাঁওয়ের মো. গোলাব আহমদের ছেলে কামরুল আহমদ (২৯), একই গ্রামের মৃত তছির আলীর ছেলে মো. হাসান (১৯) ও আনিছ আলীর ছেলে মো. আবুল হোসেন (১৯)।

প্রেসব্রিফিংয়ে আজবাহার আলী শেখ বলেন, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। আটক করা হয় তিনজনকে। তাদেরকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তন্মধ্যে মো. আবুল হোসেন খুনের ঘটনায় জড়িত মর্মে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে স্বীকারোক্তি দেন। ঘটনার সাথে জড়িত আরও দুজনের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেন তিনি। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কামরুল আহমদ ও মো. হাসানকে নামে আরও ২ আসামীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর অপর দুই আসামীও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে কামরুলের বাড়ি থেকে বুলবুলের মোবাইল ফোন ও খুনে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তে আমরা জেনেছি, ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনা ঘটেছে। শাবির গাজীকালু টিলা এলাকায় সোমবার অবস্থান করছিলেন আবুল হোসেনসহ চার জন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দুজন চলে যায়। সন্ধ্যার পর বাকি দুই জনের সঙ্গে যোগ দেয় কামরুল। গাজীকালু এলাকায় সন্ধ্যার পর ঘুরতে যান শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ ও মার্জিয়া উর্মি। ওই এলাকা নির্জন। তাদেরকে সেখানে পেয়ে আবুল হাসান, কামরুল আহমদ ও মো. হাসান মোবাইল ও টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে বুলবুলের সাথে তাদের ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তি হয়। তখন তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়’।

ছিনতাইকারীরা বুলবুলের মানিব্যাগ ও উর্মির মোবাইল, ব্যাগ কেন নেয়নি, প্রেসব্রিফিংয়ে এমন প্রশ্ন তুলেন সাংবাদিকরা। তখন আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘উর্মিকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে বলেছে, ঘটনার সময় বুলবুলের কাছ থেকে একটু দূরে সরে গিয়েছিল। বুলবুলের মানিব্যাগও খোয়া যায়নি। আসামীরা বলছে, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের পর রক্ত দেখে তারা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়’। ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে উর্মির চলে যাওয়া এবং কললিস্ট মুছে ফেলার বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কের কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি’।

তিনি বলেন, ‘উর্মি হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাকে পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, সে জানতে পারে নিহত বুলবুলের জানাজা ক্যাম্পাসে হবে। জানাজায় শরিক হতে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসে। তার চলে আসার পেছনে অপরাধমূলক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি’। আমরা উর্মির মোবাইল ও কললিস্ট চেক করে দেখেছি। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের কারো সাথে উর্মির মোবাইল যোগাযোগ ছিল না। তার মোবাইলে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি’।

এদিকে, ঘটনার পর যে তিনজনকে আটক করা হয়েছিল, তন্মধ্যে আবুল হোসেন স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি দুজনকে এখনও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদেরকে অভিভাবকদের জিম্মায় প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আসামীদের বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে বলেও জানায় তারা। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আসামীরা মাদকাসক্ত কিনা, তা ডোপ টেস্ট করলে জানা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আজবাহার আলী শেখ। তবে তাদের বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলা নেই। ফলে তাদেরকে ‘পেশাদার ছিনতাইকারী’ বলতে নারাজ এই পুলিশ কর্মকর্তা।

গত সোমবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে গাজী-কালুর টিলার পাশে (নিউজিল্যান্ড এলাকায়) ছুরিকাঘাত করা হয় শাবির লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদকে (২২)। তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বুলবুলের বাড়ি নরসিংদী সদরের নন্দীপাড়া গ্রামে। তিনি শাবির শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় গতকাল মঙ্গলবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020