1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
শতাব্দীর সাক্ষী তাহিরপুরের শিমুল বৃক্ষ
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন




শতাব্দীর সাক্ষী তাহিরপুরের শিমুল বৃক্ষ

ওয়ালীউর রহমান আখঞ্জী
    আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২২, ১:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন

কবি গুরুর ভাষায়-‘হে নিষ্ঠুর নব সভ্যতা, হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী, দাও ফিরে তপোবন,পূণ্য ছায়ারাশি।’বৃক্ষের সুশীতল ছায়াকে পূণ্যির সাথে তুলনা করে কবিগুরু বলেছেন, ধ্বংশ হচ্ছে প্রকৃতি সৃষ্টি হচ্ছে আধুনিক সভ্যতা। বিষয়টি খুবই দু:খজনক। যার ফলে বৃক্ষ যেন হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ শূণ্যের দিকে। অথচ সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই বৃক্ষ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হয়ে আসছে।

বৃক্ষ তার স্বভাব সুলভ আচরণ ও বৈশিষ্ট্যগুনে মানুষের পরম বন্ধু হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলে বৃক্ষের সাথে মানুষের বন্ধন হয়েছে আরও সুদৃঢ়। বৃক্ষের চিরাচরিত কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য যেমন বৃক্ষ তার শ্বাসপ্রশ্বাস হিসাবে যখন কার্বনডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে, আবার অক্সিজেন ত্যাগ করে। জীব জগতের অনেক উপকার হয়ে থাকে।

এছাড়াও বৃক্ষ প্রকৃতির মধ্যে সুন্দর সুশোভিত মনোরম পরিবেশ তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখে। মানবজীবনে বৃক্ষ এক অকৃত্রিম বন্ধু, যা বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। যেমন বৃক্ষের কারণেই বৃষ্টি হয়, বৃক্ষ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি তৈরিতে, সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে, প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত হতে রক্ষা পেতে ইত্যাদি। তাছাড়া কবি সাহিত্যিকদের ভাষায় বলতে হয় বৃক্ষ এমন প্রতীক যা মহাকালের ও সাক্ষী হয়ে থাকে।

ছড়াকার ও সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপনের ছড়ার ভাষায়-‘যা কিছু প্রাপ্তি,তাই তার দান-এই গুনে বৃক্ষ হয় বলবান ‘ অর্থ্যাৎ বৃক্ষ যা কিছু অর্জন করে সবকিছুই বিলিয়ে দেয় জীবকূলে। ফলে বৃক্ষ যুগ যুগ ধরে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে চলে। একটি বৃক্ষকে পর্যবেক্ষণ করেই জানা যায় অতীত বছর গুলো কেমন ছিলো। তার আবহাওয়া, জলবায়ু অন্যান্য কিছু।

কবি মোতায়ের হোসেন চৌধুরীর মতে : বৃক্ষ হচ্ছে মানব জীবনের সার্থকতার প্রতীক। কেননা বৃক্ষের দিকে থাকালেই বৃক্ষের সৃষ্টি ও সফলতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়। আর এর থেকে জ্ঞান নিয়ে অনুধাবন করা যায় মানব জীবন কেমন ভাবে পরিচালনা করা উচিত। একটি প্রাচীন বৃক্ষ হতে পারে সেই সকল এলাকার অতীত সময়কালের চুড়ান্ত সাক্ষী । যার দ্বারা জানা যেতে পারে, তখন কার সময় কালের তথ্য উপাত্ত। কিন্তু সময়ের বিবর্তন এ যদি হারিয়ে যায় সেই বৃক্ষ তবে তো হারিয়ে যাবে অতীত ঐতিহ্য। কালবৈশাখী জড় এলেই জেনে জনমানবের মনে আসে নানা ক্ষয় ক্ষতির আশংঙ্কা, কখন কি জেনে উড়িয়ে নিয়ে যায় কালনী হাওয়ায়। সবকিছু উদ্বাস্তু করে দিয়ে যায় কালনী থাবায়। তেমনি কালবৈশাখীর কালনী থাবায় ভেঙে পড়ে গিয়েছে শতাব্দীর অন্যতম সাক্ষী সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষী শিমুল বৃক্ষ। যা আনুমানিক বিংশ শতাব্দীর প্রথমাংশে রূপন করা হয়েছিলো।

এই বৃক্ষটি সাক্ষী হয়ে ছিলো সে সময় কালের নানা কার্যক্রম, ইতিহাস, ঐতিহ্যের সাথে। বিট্রিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তানি শাসনামল ও সর্বপরি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টির অন্যতম সাক্ষী ছিলো তরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শতবর্ষী শিমুল বৃক্ষটি। বৃক্ষের সব ডাল পালা ভেঙ্গে পড়ে শুধু বৃক্ষের মূল অংশ এখনো দন্ডায়মান। এই বৃক্ষের ভেঙে পড়ায় ঐতিহ্যের এক সাক্ষীর অবসান ঘটবে, পরিবেশের সুন্দর্যের মধ্যে ম্লান হয়ে যাবে। তাই অনেক প্রকৃতি প্রেমিদের দাবী যেন উক্ত বৃক্ষের স্হলে যেন আরো বেশ কিছু বৃক্ষের রূপণ করাহয়,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়।

লেখক:
ওয়ালীউর রহমান আখঞ্জী অনার্স ২য় বর্ষ.
ইতিহাস বিভাগ
সিলেট এম সি কলেজ।

 

 




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020