1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
শ্রীমঙ্গলে কাশবন : ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৩১ অপরাহ্ন




শ্রীমঙ্গলে কাশবন : ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
    আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৮:৩৯ অপরাহ্ন

শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের টার্নিং পয়েন্টে ভুরভুরিয়া ছড়ার দু’পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কাশবন দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শুক্রবার, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কাশবনের আকর্ষণে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন মানুষ এই কাশবনে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন এখানে।

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। আমাদের দেশে দুই মাস পর পর ঋতু পরিবর্তন হয়। এখন চলছে ভাদ্র। শরৎকাল। প্রকৃতিতে যখন শরৎকাল আসে তখন শরৎ এর আগমনী বার্তা জানিয়ে দেয় ‘কাশফুল’। শরৎ ঋতুতে ধবধবে সাদা রঙের কাশফুল ফুটে। কাশফুলের শুভ্রতাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শরৎ এসেছে। এ সময় দিগন্তজোড়া প্রান্তরে কাশফুলের মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে।

শরৎকাল মানেই শুভ্রতার ঋতু। শরৎ মানেই নদীর তীরে, বালুচরে, গ্রামের উঁচু কোন জায়গায় কাশফুলের সাদা হাসি। আদি নিবাস রোমানিয়ায় হলেও আমাদের দেশে নদীর তীর, পুকুর পাড় কিংবা বালুচরসহ গ্রামাঞ্চলে কাশবন দেখা যেত। এই জায়গাগুলোতে অর্থাৎ নদীর ধারে কিংবা বালুচরে চিরচেনা সেই দৃশ্য এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না। কালচক্রে হারিয়ে যাচ্ছে কাশবন।

আকাশে নরম তুলার মতো, শুভ্র মেঘের মতো ভেসে বেড়াতে না পারলেও কাশফুলের জগতে ঘুরে বেড়াতে পারেন, পারেন সাদা ধবধবে কাশবনে হারিয়ে যেতে। শহুরে ব্যস্ত জীবন আর কোলাহলময় যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও কাশফুলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ঘুরতে বা বেড়াতে যেতে পারেন। হারিয়ে যেতে পারেন কিছুক্ষণের জন্য হলেও ধবধবে সাদা কাশফুলের বনে।

শ্রীমঙ্গলের কাশবন। শহর থেকে দেড়-দুই কিলোমিটারের পথ। নান্দনিক সৌন্দর্যের আর দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ি ছড়ার দুইপাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই কাশবনের অবস্থান। এটির নাম ভুরভুরিয়া ছড়া (পাহাড়ি নদী)। ছড়াটি বিশাল চা-বাগানকে দু’ভাগে ভাগ করে রেখেছে। সবুজ-শ্যামল চা-বাগানের মাঝ দিয়ে ছড়াটি প্রবাহমান। অপূর্ব এক আরণ্যক পরিবেশ যা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গল শহরের জিরো পয়েন্ট চৌমোহনা থেকে এখানে আসতে নয়ন ভুলানো প্রাকৃতিক দৃশ্য আগতদের মুগ্ধ করে। শহর থেকে দৃষ্টিনন্দন এ কাশবনে আসতে পর্যটক, দর্শনার্থী আর ভ্রমণপিপাসুরা হন বিমোহিত। অপরুপ প্রাকৃতিক পরিবেশে চারদিকে পাহাড় টিলার ভাঁজে ভাঁজে চা-বাগান ঘেরা আর ভুরভুরিয়া ছড়ার দু’পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে কাশবনে আসতে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। শহর থেকে এখানে আসতে দু’পাশে দেখতে পাবেন শুধু চা-বাগান আর চা-বাগান। মাঝ দিয়ে পীচ ঢালা পথ। ভাগ্য ভাল হলে চা-বাগানে চা-কন্যাদের চা-পাতা চয়নের মনোরম দৃশ্যও চোখে পড়বে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে বানরসহ নানান জীবজন্তুরও দেখা পেয়ে যেতে পারেন। আপনি এ সময় সেলফিও তুলে নিতে পারেন।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন চা গবেষণা কেন্দ্রের টার্নিং পয়েন্টে। এখানে নেমেই আপনি ভুরভুরিয়া ছড়ার দু’পাশে সাদা ধবধবে কাশবনের দেখা পাবেন। পুরো এলাকাটি আপনি ঘুরে দেখতে পারেন। ছড়াটিতে পানি খুব কম। আপনি সহজেই ছড়া অতিক্রম করে হেঁটে চলে যেতে পারেন ওপারে। উপভোগ করতে পারেন কাশবনের অপার সৌন্দর্য।

সাদা কাশবনের চারদিকে দেখতে পাবেন সবুজ আর সবুজ। সবুজের সমারোহ। চারদিকে সবুজ চা-বাগানের মাঝে ভুরভুরিয়া ছড়া আর কাশবনের সৌন্দর্য পর্যটক, দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে আকর্ষণীয় এই কাশবন দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। চলছে সেলফি তোলার প্রতিযোগিতাও। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, তরুণীরা খোঁপায় কাশফুল গেঁথে সেলফি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে। শিশু, নারী-পুরুষসহ দর্শনার্থীদের পদভারে মুখর কাশবনে চলছে সেলফি তোলার ধুম।

চারদিকে চা-বাগান ঘেরা অদ্ভুত এক নির্জন আর নজরকাঁড়া স্নিগ্ধ পরিবেশ যে কাউকে মুহূর্তে মন ভরিয়ে দেবে এতে কোন সন্দেহ নেই। মনোমুগ্ধকর পরিবেশে অবস্থিত এই কাশবন আর এখানকার প্রকৃতি যে এতো বিচিত্র হতে পারে তা এখানে না আসলে বুঝাই যাবে না।

এখন শরৎকাল। ভাদ্র মাসের এই সময়ে দেশের আনাচে-কানাচে, নদীর তীরে, বালুচরে আর গ্রামাঞ্চলে শরতের শুভ্র আকাশের নীচে দুলে ওঠা কাশবনে কাশফুল দেখতে কার না ভাল লাগে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের শুভ্রতা এমনটি শুধু শরৎকালেই দেখা যায়। প্রকৃতি তখন যেন তার রুপ পাল্টে নতুন রঙ ধারন করে। এমনি সময়ে সব বয়সের মানুষের পদচারনায় মুখরিত থাকছে কাশবন।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020