1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
সিলেটে পশুর ঘাটতি,আনাগোনা কম ক্রেতা-বিক্রেতার
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:১১ অপরাহ্ন




সিলেটে পশুর ঘাটতি,আনাগোনা কম ক্রেতা-বিক্রেতার

স্টাফ রিপোর্ট::
    আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২২, ৬:০৪:৩৫ অপরাহ্ন

সিলেটে এবার কোরবানির পশুর সংখ্যাও ঘাটতি রয়েছে যথেষ্ট। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশুর ঘাটতি হবে না এবং এ বছর কোনবানীযোগ্য পশুর মজুদ রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০৩ টি। এছাড়া এবার ঘর থেকে আরও দেড় লক্ষাধিক পশু কোরবানীর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সিলেটে এবার কুরবানী হবে প্রায় ৪ লাখ পশু। গেল বছর সিলেট বিভাগে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭৪ হাজার। এর বিপরীতে পশুর চাহিদা উল্লেখ করা হয় ৪ লাখ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার। আর ওই সময়টাতে সিলেট বিভাগে কোরবানি হয়েছিল ৪ লাখ ৮ হাজার ৯৮০টি পশু। সেই হিসাবে সিলেট বিভাগে কোরবানির পশু কমেছে গেল বছর থেকে কমেছে ১লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৪টি। আর পশুর ঘাটতি রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার। যদিও যথাসময়ে এ চাহিদা পূরণ হবে বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের দায়িত্বশীলরা।

একদিকে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেট অঞ্চলের লোকজন। তার উপর বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে প্রাণিসম্পদের। বে-সরকারি হিসেব অনুযায়ী বন্যায় মারা গেছে পশু, মহিষ ও ছাগল-ভেড়াসহ গৃহপালিত প্রায় ২১ হাজার পশু। এখনো পানিতে নিমিজ্জিত গ্রামীণ জনপদ। ধীরে ধীরে পানি নামলেও বানের পানি এখনও সহনীয় পর্যায়ে নেই। স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার অপেক্ষায় উন্মুখ বানযুদ্ধের লাখ লাখ মানুষ। এমতাবস্থায় দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আযহা।
বন্যায় ক্ষতির শিকার হয়েছেন খামার মালিকরাও।

তবে আসন্ন কোরবানীর ঈদেও স্বস্থি নেই খামারিদের মনে। নিজ খামারের ২৩টি গরু নিয়ে এভাবেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেট নগরীর কাস্টঘরের খামারি জসিম উদ্দিন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ধার-দেনা করে ২৩টি গরু আট মাস ধরে খামারে রেখে পরিচর্যা করছেন তিনি। খামারে রয়েছে তিনজন শ্রমিক। কিন্তু তৃতীয় দফার বন্যায় পানিতে তলিয়ে যায় জসিম উদ্দিনের গরুর খামার। অগত্যা খাামারের গরুগুলো মেইন রাস্তার পাশে একটি ত্রিপল টাঙিয়ে স্থানান্তর করেন তিনি। কিন্তু ঈদের মাত্র ৫ দিন হাতে থাকলেও দুঃশ্চিন্তার অন্ত নেই জসিমের। যে হাটে তিনি গরুগুলো বিক্রির জন্য তুলবেন,নগরীর বৃহত্তম সেই হাট কাজিরবাজারে শনিবার পর্যন্ত পশুর সংখ্যা ছিল হতাশাজনক। সেখানে এখনও বিক্রেতার সাক্ষাত পাননি তিনি।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালবাজার এলাকার খামারি আব্দুস সাত্তার প্রায় ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে খামার গড়ে তুলেছেন। সেখানে এখন বিক্রির জন্য উপযুক্ত গরু আছে ৪০টি। ঈদে সেগুলো বিক্রি করবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু এখনও হাট না বসায় তিনি লোকসানের শঙ্কায় আছেন। সাত্তার বলেন, ‘হাটের জায়গাগুলো এখনও পশু বিক্রির উপযোগী হয় নি। তাই এখনও শঙ্কায় আছি।’ শেষ দিকে হাট বসলেও আশানুরূপ ব্যবসা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্যায় সব মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ। এখন জীবন বাঁচানোই দায় হয়ে উঠেছে অনেকের। কোরবানি দেওয়ার মতো পয়সা বেশিরভাগের হাতেই নেই। এ কারণে এবার পশু বিক্রি কমে যাবে। আবার বিক্রি হলেও আশানুরূপ দাম পাওয়া যাবে না।’ তিনি জানান, গো-খাদ্যের সংকট রয়েছে। ‘গরুগুলো না পারছি রাখতে, না পারছি বিক্রি করতে।’

কাজিরবাজার পশুর হাটের ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন লোলন জানান, সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার খামারি ও ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে পশু নিয়ে আসেন। এবার বন্যার বেশিরভাগ সড়ক তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে কেউ পশু নিয়েও আসতে পারছেন না। তবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দু-একদিনের মধ্যে হাটে পশুর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আনাগোনা বাড়বে ক্রেতা-বিক্রেতারও।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগে ১৪ হাজার ৯৭১ জন খামারীর কাছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০৩টি কোরবানীযোগ্য পশু রয়েছে। এরমধ্যে ৯১ হাজার ৩৭৫টি ষাঁড়, ২৭ হাজার ৪৬৬টি বলদ, ২৩ হাজার ৪৯০টি গাভী, ৮ হাজার ৯৩৬টি মহিষ, ৬২ হাজার ৬১৩টি ছাগল ও ২৯ হাজার ৯২৩টি ভেড়া রয়েছে। এছাড়া পারিবারিকভাবে আরো ১ লাখ ৫০ হাজার ৪০৩টি পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ সিলেট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আযহায় সিলেট জেলায় ৭৭ হাজার ৩৯২টি কোরবানীযোগ্য পশু রয়েছে। এরমধ্যে ষাঁড়, বলদ ও গাভী আছে ৪৩ হাজার ৭৭৪টি, মহিষ ৪ হাজার ৬৫২ টি ও ছাগল-ভেড়া ২৮ হাজার ৯৬৬টি।
সুনামগঞ্জ জেলায় ৬৯ হাজার ২৮৯টি কোরবানীযোগ্য পশুর মধ্যে ষাঁড়, বলদ ও গাভীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৮২৮টি, ১ হাজার ৭৯৪টি মহিষ, ২০ হাজার ৬৬৭টি ভেড়া-ছাগল রয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলায় ৩৯ হাজার ১৩টি কোরবানীযোগ্য পশুর মধ্যে ষাড়, বলদ ও গাভী রয়েছে ১৯ হাজার ৪১৭টি, মহিষ ১ হাজার ৭৫৭টি, ছাগল-ভেড়া আছে ১৭ হাজার ৮৩৯টি।

হবিগঞ্জ জেলায় ৫৮ হাজার ১০৯টি কোরবানীযোগ্য পশুর মধ্যে ষাঁড়, বলদ ও গাভী আছে ৩২ হাজার ৩১২টি, মহিষ আছে ৭৩৩টি ও ছাগল-ভেড়া আছে ২৫ হাজার ৬৪টি।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, তিন দফা বন্যার পরও সিলেটে ঘাটতি হবে কুরবানীযোগ্য পশুর। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সিলেটের বাহিরে থেকে প্রতিবারই প্রচুর পরিমান পশু সিলেটে আসে। যে কারণে চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে এ বছর কোরবানীও কমতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সিলেট জেলা ও মহানগরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৪১টি কোরবানির পশুর হাট বসার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020