1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
সিলেটে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু,রহস্য খুঁজে পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন




সিলেটে প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু,রহস্য খুঁজে পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

স্টাফ রিপোর্ট::
    আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ৪:৩২:০৭ অপরাহ্ন

সিলেটে যুক্তরাজ্য প্রবাসী একই পরিবারের অবচেতন ৫ জনের মধ্যে ২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো স্পষ্ট ধারণা করতে পারেনি পুলিশ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং পার্শ্ববর্তীসহ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো রহস্য খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তারা বলছে, ওই প্রবাসীর পরিবারে খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে করা হয়েছে। এগুলো রাসায়নিক ল্যাবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার পর নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে।

গত ১৮ জুন স্ত্রী হুছনারা বেগম, তিন সন্তান মাইকুল ইসলাম, সাদিকুল ইসলাম ও সামিরা ইসলামকে নিয়ে দেশে আসেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম। ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীরের বড় ধিরারাই গ্রামের বাসিন্দা তারা। একই উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলচন্ডী সড়কের একটি বাসা ভাড়া নেন তারা। ওই বাসার মালিক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অরুনোদয় পাল ঝলক। বাসাটি ভাড়া নেওয়ার একদিন পর অর্থাৎ ১৯ জুন গ্রাম থেকে ওই বাসায় আসেন রফিকুলের শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রী। তারাও একসঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৫ জুলাই) রাতে ঘটনাটি ঘটে। ওইদিন প্রবাসী রফিকুল ইসলাম বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড কিনে আনেন। রাতে সবাই ফাস্টফুড খেয়ে ১০টার দিকে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) সকালে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তাদের মধ্যে রফিকুল ও বড় ছেলে মাইকুলের মৃত্যু হয়। বাকি তিনজনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের লোকজন জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হুছনারা ও সাদিকুলের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে সামিরার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।

ঘটনাটি মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) দুপুরের দিকে হলেও বুধবার (২৭ জুলাই) রাত পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। যদিও এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রফিকুলের পাশের কক্ষে থাকা শ্বশুর আনফর আলী, শাশুড়ি বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন ও শ্যালকের স্ত্রী শোভা বেগমসহ ১২ জনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, কারও সঙ্গে ওই পরিবারের কোনো বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ওই পরিবারের বাকি সদস্য যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের সুস্থ হওয়ার অপেক্ষা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমরা এখনো বুঝতে পারছি না কীভাবে এই ঘটনা ঘটল। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যারা অসুস্থ তাদের সঙ্গে আলাপ করলে হয়তো কিছু তথ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু সুস্থ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ওই পরিবারের পাশের কক্ষে থাকা স্বজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু কারও কথাবার্তায় অসংলগ্ন কিছু পাওয়া যায়নি। আবার তারা এতটাই নিকটাত্মীয় যে তাদের সন্দেহও করা যাচ্ছে না।

এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে না পারা বিব্রতকর জানিয়ে এসপি বলেন, তাদের জমিজমা বা অন্য কিছু নিয়ে বিরোধের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। প্রবাসে থাকায় এলাকার লোকজনের সঙ্গেও তেমন সম্পর্ক নেই। ছেলেমেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে তা আমরাও বুঝতে পারছি না।

সিআইডি সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা মঙ্গলবার চিকিৎসকের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, খাবারে বিষক্রিয়া থেকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন আলামত জব্দ করে এনেছি। ওই বাসার সব খাবার নিয়ে এসেছি। এগুলো রাসায়নিক ল্যাবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হবে।

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, পরিবারের কেউ মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করবে। তবে এই ঘটনার ক্লু উদঘাটন হলে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া গেলে পরবর্তীতে হত্যা মামলা নেওয়া হবে।

রফিকুলের শ্যালক সেবুল আহমদ জানান, সোমবার রাতের খাবার শেষে রফিকুল তার স্ত্রী সন্তানসহ একটি কক্ষে এবং তার শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও মেয়ে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে তারা ডাকাডাকি করার পরও রফিকুল বা তার স্ত্রী-সন্তানদের কেউ রুমের দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশ গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে পাঁচজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেলে পাঠায়। তিনি বিষয়টি পরিকল্পিত দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সুবিচার কামনা করেন।

এদিকে মৃত বাবা-ছেলের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের বড় ধিরারাই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020