1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
সিলেট সীমান্তে বাড়ছে গরু চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:১৫ অপরাহ্ন




সিলেট সীমান্তে বাড়ছে গরু চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য

নীরব চাকলাদার
    আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২২, ৩:৩৯:১০ অপরাহ্ন

সিলেটে সুখবর নেই পশুর হাটে। হাটগুলোতে পশুর যেভাবে ঘাটতি একইভাবে আনাগোনাও কম রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার। এই দৃশ্য শুধু নগর এলাকার নয়, সিলেট ও সুনামগঞ্জের পশুর হাটগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজমান। হাতে সময় নেই ৫ দিনও। সাধারণত অন্যান্য বছর জমজমাট হয়ে উঠে সিলেটের কোরবানীর হাটগুলো। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি পুরোটাই ভিন্ন। এরইমধ্যে সীমান্ত এলাকায় বাড়ছে গরু চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য। এতে করে স্থানীয় খামারিসহ গরু ব্যবসায়ীরা রয়েছেন ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোর চক্ররা। এই দুই সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া না থাকায় সীমান্ত পথে দিন-রাতে ভারত থেকে আসছে গরুসহ চোরাই পণ্য। আবার এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। তারা বিজিবি, ডিবি ও থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে নিরাপদে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝেমধ্যেই লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে চোরাই গরুসহ মালামাল আটক করলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূল হোতারা। এসব তথ্য জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বিছনাকান্দি সীমান্ত থেকে একটি চোরাই গরুর চালান আটক করে বিজিবি। এ তথ্য নিশ্চিত করে বিজিবি ৪৮ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জানান, আটককৃত ২৪টি ভারতীয় গরুর বাজার মূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা।

এদিকে কোরবানির জন্য গোয়াইনঘাটের বিছানাকান্দি দিয়ে প্রতিদিন দেশে আসছে অসংখ্য গরু। সীমান্ত পেরোনোর পর কিছুটা নৌপথ ও কিছুটা সড়কপথ ভ্রমণ শেষে শহরে প্রবেশ করেছে গরুগুলো। কেবল বিছনাকান্দি দিয়েই প্রতিদিন প্রায় ৫০০ গরু অবৈধভাবে দেশে আসছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্তের ওপারের ভারতীয় টিলা থেকে দলবেঁধে নেমে আসছে গরু। ওপারের টিলার উপর থেকে কয়েকজন গরুগুলোকে এদিকে ছেড়ে দেয়। এপারে আসার পর আরো কয়েকজন গুণে গুণে গরুগুলোকে ইঞ্জিন নৌকায় তুলে নেয়। এরপর গরু নিয়ে আসা হচ্ছে সিলেটের দিকে। তবে এ ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বিজিবি সদস্যদের। এমন অভিযোগ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বিছানাকান্দির আকবর আলীর।

কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেট-সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারত বৈধভাবে বাংলাদেশে গরু রপ্তানি করে না। তবু প্রতি বছর ঈদুল আজহার মৌসুমে সিলেটের সীমান্তগুলো দিয়ে ভারত থেকে আসে অসংখ্য গরু। এই চোরাচালানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) স্থানীয় দায়িত্বশীলরা জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ মতে,পাচারকারীরা সীমান্ত বাহিনী বিজিবি ও পুলিশের নজর এড়াতে ছোট-ছোট গাড়ি ব্যবহার করে। রাতের বেলা এই চক্রটি মেঘালয় রাজ্যের জোয়াই-বদরপুরের জাতীয় সড়কের পাশের বিভিন্ন বাড়িতে গরু-মহিষসহ মালামাল পৌঁছে দেয়। সেখানে হাত বদলের দায়িত্বে থাকে স্থানীয় কিছু খাসিয়া যুবক। পরে অন্য একটি পাচার চক্র সেখান থেকে সময়-সুযোগ মতো নিয়ে যায় সীমান্তে। এজন্য গরু প্রতি ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, পাচারকারী দল গরু-মহিষ ও চোরাই মালামাল আনা-নেয়ার জন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ব্যবহার করেন। টাকার বিনিময়ে এসব বাড়িতে গরু-মহিষসহ বিভিন্ন পণ্য রেখে নাম্বার ফেলা হয়। পরে মোবাইলের মাধ্যমে সমতলের চোরাকারবারীদের জানিয়ে দেওয়া হয় গরু ও মহিষের নাম্বার। ওপার থেকে প্রথমে দুই-একটি গরু ছেড়ে দিলেই সীমান্তের এপারে থাকা লাইনম্যানের কাছে চলে আসে সঙ্কেত। এ ছাড়াও বিএসএফের টহল ও নজরদারি একটু ঢিলেঢালা হলেই গরু-মহিষের গলায় ও মুখে রশি বেঁধে জোড়া-জোড়া করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এপারে পৌঁছানোমাত্র দাঁড়িয়ে থাকা লাইনম্যানরা নাম্বার দেখে দ্রুত সরিয়ে নেয় সেগুলোকে। এভাবেই চলছে মেঘালয় ও জৈন্তাপুর সীমান্ত পথে ভারতীয় অবৈধ গরু-মহিষ ও পণ্য চোরাকারবারীদের রমরমা ব্যবসা।

এ প্রসঙ্গে জানতে বিজিবি-১৯ ব্যাটালিনায় লালাখাল ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি কল রিসিভ করলে সাংবাদিক পরিচয় দিলে অপরপ্রান্ত থেকে ‘হ্যালো-হ্যালো’ কথা শোনা যাচ্ছে না বলে লাইন কেটে দেন।

এদিকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বলছে, সিলেটে এবার কোরবানির পশুর সংখ্যাও ঘাটতি রয়েছে যথেষ্ট। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশুর ঘাটতি হবে না এবং এই বছর কোরবানীযোগ্য পশুর মজুদ রয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০৩টি। এ ছাড়াও এবার ঘর থেকে আরও দেড় লক্ষাধিক পশু কোরবানির কথা রয়েছে। এবার সব মিলিয়ে সিলেটে কোরবানি হবে প্রায় ৪ লাখ পশু। গত বছর সিলেট বিভাগে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭৪ হাজার। ওই সময়টাতে এই বিভাগে কোরবানি হয়েছিল ৪ লাখ ৮ হাজার ৯৮০টি পশু। সেই হিসেবে গত বছরের তুলনায় কোরবানির পশু কমল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৪টি। যদিও যথাসময়ে এই চাহিদা পূরণ হবে বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের দায়িত্বশীলরা।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, তিন দফা বন্যার পরও সিলেটে ঘাটতি হবে কোরবানীযোগ্য পশুর। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সিলেটের বাইরে থেকে প্রতিবার প্রচুর পরিমাণ পশু সিলেটে আসে। যে কারণে চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে এ বছর কোরবানিও কমতে পারে।

উল্লেখ্য, সিলেট জেলা ও মহানগরে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৪১টি কোরবানির পশুর হাট বসার অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020