1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
সীমান্তে সীমাহীন ভোগান্তিতে মানুষ
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৬:০৯ অপরাহ্ন




সীমান্তে সীমাহীন ভোগান্তিতে মানুষ

বাংলানিউজএনওয়াই ডেস্ক
    আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২২, ১১:১৫:২৩ অপরাহ্ন

করোনা পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সবার জন্য ভিসা চালুর পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন শুধু বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ছয় থেকে সাত হাজার যাত্রী যাতায়াত করছে। কেউ যাচ্ছে ঘুরতে, কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ কেউ ছুটছে ব্যবসায়িক কাজে। যাতায়াতের সময় ভারতীয় অংশে ইমিগ্রেশনে নানান অব্যবস্থাপনায় পাসপোর্ট-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সারতে একেক জনের সময় লাগছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। বাংলাদেশের পর্যটকদের ভারতে ঢোকা, অবস্থান ও ফেরত আসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার দূর করতে সে দেশের সরকারকে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সচিব পর্যায়ের বার্ষিক কনস্যুলার সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে যাত্রীরা। নেই যাত্রী অনুপাতে বিশ্রামাগার। এতে পাসপোর্টের কাজ সারতে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কি রোদ, কি বৃষ্টি, দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় থাকতে হয় বলে ক্ষোভ বেড়েছে যাত্রীদের। এক মাস ধরে এ অবস্থা চলছে। দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে লোকবল বাড়েনি। পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রী রুবেল জানান, ভোর ৪টায় লাইনে দাঁড়িয়ে দুই পারের ইমিগ্রেশন সারতে সময় লাগছে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন ধীরগতিতে কাজ করছে।

যাত্রী অসীম দেবনাথ জানান, হাজার টাকা নিয়ে দালালেরা লোকজনকে আগে পার করে দিচ্ছে। আর যারা টাকা দিতে পারছে না, তাদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ভারত ভ্রমণে প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ভারতীয় হাইকমিশন ৮৪০ টাকা ভিসা ফি, বাংলাদেশ সরকার ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর এবং বেনাপোল স্থলবন্দর ৫০ টাকা নেয়। তবে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না।

যাত্রী বরকত বলেন, ‘যেভাবে লম্বা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভারতযাত্রা করতে হচ্ছে মনে হচ্ছে অবৈধ পথে যাচ্ছি।’ সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। আমান জানান, চিকিৎসার জন্য পরিবার নিয়ে ভারতে যাচ্ছেন। চেন্নাইয়ের বিমান টিকিট করা ছিল রাত্রে। কিন্তু বন্দরে এসে সব হিসাব-নিকাশ উল্টো হয়ে গেল। বিমান ধরা যাবে না।

বেনাপোল বন্দর থানা-পুলিশের ওসি বলেন, বন্দর এলাকায় যাত্রী নিরাপত্তায় অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বারবার যাত্রীদের দালাল শ্রেণির সঙ্গে লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন দালালকে আটক করে চালান দেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, করোনাকালে দিনে যাত্রীর সংখ্যা ১০০ জনের ঘরে থাকলেও এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ছয় থেকে সাত হাজার। ভারতীয় অংশে ইমিগ্রেশনে জনবল কম থাকায় বাংলাদেশ অংশে দীর্ঘ লাইন পড়েছে। তবে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে। বেনাপোল বন্দরে যাত্রীসেবা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মহাসিনা আক্তার রুমপা জানান, করোনায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত দুই বছর ধরে মানুষ ভারতমুখী হতে পারেনি। এখন সংক্রমণ কমে আসায় ভারত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। সব ধরনের ভিসা দিচ্ছে। কেবল করোনা প্রতিরোধক দুটি টিকা নিলেই করোনা পরীক্ষা ছাড়াই যাওয়া যাচ্ছে ভারতে। এতেই বেড়েছে যাত্রী যাতায়াতের সংখ্যা।

বুড়িমারী সীমান্তে প্রতিদিন বর্তমানে কমপক্ষে তিন শ লোক ভারতে যায়। কাছাকাছি সংখ্যক ফিরে আসে। যাতায়াতকালে বাংলাদেশ অংশে একেক জন যাত্রীর এক থেকে দেড় ঘণ্টা এবং ভারতীয় অংশে অন্তত দুই ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে ইমিগ্রেশনে। তবে আখাউড়া, তামাবিল ও হিলি সীমান্তে যাত্রীদের যাতায়াতের অবস্থা অন্য স্থলবন্দরগুলোর তুলনায় ভালো।

বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক

স্থলপথে যাতায়াতের সময় ভারতীয়রা ইমিগ্রেশনের সুবিধা আছে এমন যেকোনো স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে ও বের হয়ে যেতে পারে। বৈঠকে একই সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ইস্যু করা ভিসায় নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থলবন্দরের নাম উল্লেখ করে দেয় ভারত। এর বাইরে অন্য কোনো স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশিদের যাতায়াতের সুযোগ নেই। বৈঠকে বাংলাদেশ বলেছে, বর্তমানে ইমিগ্রেশনের সুবিধাসম্পন্ন প্রতিটি স্থানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভ্রমণ দলিলাদি পরীক্ষা এবং রেকর্ড রাখার সুবিধা আছে। এই অবস্থায় যেকোনো স্থলবন্দর হয়ে যাতায়াতের সুযোগ বাংলাদেশিদের জন্যও উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এ ছাড়া, পর্যটক ভিসাধারী যেসব বাংলাদেশি ভারতে ভ্রমণের সময় চিকিৎসা নিতে চান, সে দেশে অবস্থানকালে তাঁদের ভিসা পরিবর্তন করতে হয়। ভ্রমণকালে ভিসা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। ভারতীয় পক্ষ সোমবারের বৈঠকে ভিসা ব্যবস্থার অসুবিধাগুলোর সমাধানের দিকগুলো বিবেচনা করবে বলে বৈঠকে জানিয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে সামস। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওভারসিজ ইন্ডিয়ান অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সচিব আওসাফ সাইয়িদ। এ ছাড়া, বৈঠকে অর্থপাচার মামলায় অভিযুক্ত পিকে হালদারকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় পক্ষ বলেছে, সে দেশে ‘প্রক্রিয়া’ শেষ করে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ একাধিক মামলা চলমান আছে।

বৈঠকে বাংলাদেশে মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রায় আট হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভিসা জটিলতার অবসানের জন্য ভারতের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে। বর্তমানে এসব শিক্ষার্থীকে এক বছরের ভিসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের ভিসা নবায়ন করতে হয়। ভারতীয় পক্ষ শিক্ষার পূর্ণ মেয়াদের জন্য ভিসা দিতে বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে। বাংলাদেশ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020