1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
সুনামগঞ্জে অনিরাপদ সড়ক : দুর্ভোগ ব্যবসায়ীদের
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন




সুনামগঞ্জে অনিরাপদ সড়ক : দুর্ভোগ ব্যবসায়ীদের

শাহিদ হাতিমী
    আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২২, ৯:২৯:৩২ অপরাহ্ন

সময়ের ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সড়কে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। এতে করে সুনামগঞ্জ শহরের সঙ্গে সরাসরি গাড়ি যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই আবার জরুরি প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসার প্রয়োজনে জেলা শহরে থেকে পণ্য পরিবহন করছেন এই ভাঙা সড়ক দিয়ে। অনেক সময় ভারী গাড়িগুলো কাদায় আটকে যাচ্ছে। পরে সেখান থেকে মালামাল নামিয়ে ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয় গন্তব্য স্থলে। এ ভাবেই চলছে সুনামগঞ্জের সঙ্গে জেলার প্রায় ১০টি উপজেলার যোগাযোগ। নিরাপদে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কঠিন হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জেলার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

সুনামগঞ্জে ভাঙা সড়কের ২০ স্থানে হবে সেতু নির্মাণ। সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ সড়ক, সুনামগঞ্জ-দোয়ারা-ছাতক সড়কসহ অনেক সড়কে বন্যায় বড় বড় ভাঙন হয়েছে। এসব স্থানে সেতু, কালভার্ট বা কজওয়ে (অপেক্ষাকৃত নিচু সড়ক, বেশি পানি হলে যাতে ওপর দিয়ে যেতে পারে) নির্মাণ করতে হবে। ২০টিরও বেশি অংশে বিপজ্জনক ভাঙন হয়েছে। এসব অংশের ডিপিপি তৈরির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার উজ্জ্বলপুরের পাশা মিয়ার বাড়ির পাশ থেকে উজ্জ্বলপুর মোড় পর্যন্ত সড়ক এবারের বন্যায় এখনও ওখানে ১৪-১৫ ফুট পানি রয়েছে। এবারের বন্যায় পুরোপুরি খাল হয়ে আছে এই সড়কের ৩০০ মিটার অংশ। ২০২০ সালের বন্যায়ও এই সড়কের ১৪০ মিটার অংশ ভেসে যায়। পরে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুরমা নদীতীরের এই সড়ক অংশে ব্লক বিছিয়ে পাকা করে সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কের সেই অংশ এবারও টেকেনি। এবার ওই অংশের সামান্যসহ অন্য অংশের ৩০০ মিটার ভাসিয়ে ভাটির মানুষকে প্লাবিত করেছে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি, প্রফেসর কাশমির রেজা বললেন, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের ১১ অংশ ভেঙেছে, বন্যার সময় সড়ক ভাঙার পর প্রবল বেগে পানি ঢুকে ভাটি অঞ্চলকে প্লাবিত করেছে। সড়ক না হয়ে সেতু বা কালভার্ট থাকলে এসব অংশ দিয়ে উজানের পানি সহজে নামত। ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দারাও তখন প্রস্তুত থাকতেন। ভাটি অঞ্চলের প্রতিটি সড়কের ক্ষেত্রেই যেখানে যেখানে সেতু প্রয়োজন, সেখানে সেতু করতেই হবে। অন্যথায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। উজানের মানুষকে বন্যার ভোগান্তি পোহাতে হবে।

ভাঙ্গনকৃত সড়কে চলাচলকারী অনেকেই জানান, ২০২০ সালেই উজ্জ্বলপুরের এই ভাঙন অংশে সড়ক করা ঠিক হয়নি। দুর্লভপুরের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ব্লক বিছিয়ে ঢালাই করে সড়ক করতে যে টাকা ব্যয় হয়েছে, এই টাকা ব্যয়ে সেতু করা যেত। যেহেতু নদীর পাড়ের এই অংশে হাওর রক্ষা বাঁধ করাই হয়, তাহলে সড়ক না করে সেতু বা স্লুইসগেট কাম সেতু করা উচিত ছিল।

এ প্রসঙ্গে জামালগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন- পানির চাপে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের পাঁচ অংশে এবং জামালগঞ্জ- সেলিমগঞ্জ সড়কের ছয় অংশ এবার ভেঙেছে। জামালগঞ্জের উপসহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমান জানান, এবার প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন আছে, যেখানে সড়ক ভেঙেছে, সেখানে সড়ক নয়, সেতু করতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানেরও কঠোর নির্দেশনা আছে- ভাঙনে আর সড়ক নয়, সেতু, কালভার্ট বা কজওয়ে হবে। এবার তাহলে কী করা হবে- এমন প্রশ্নে প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ওখানে সেতুই করতে হবে। প্রকৌশলী আনিছুর রহমানকে উজ্জ্বলপুরের এই ভাঙন অংশে সেতু না করে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন সড়ক করা হয়েছিল? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন সেতু করতে দেননি।

কেবল জামালগঞ্জের এই সড়ক নয়, অপরিকল্পিতভাবে সেতুর স্থলে সড়ক করায় সুনামগঞ্জ জেলার কমপক্ষে ২০টি ভাঙন অংশে এবার সেতু, কালভার্ট বা কজওয়ে নির্মাণ করতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বন্যার পর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বলেন, ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সড়কের যে অংশ ভেঙেছে, কোথাও আর সড়ক নয়, সেতু বা কালভার্ট করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিদের সাথে । বন্যার নানাদিক সামনে এনে তাদের বক্তব্য হচ্ছে- সিলেট বিভাজুড়ে যে বন্যা হয়েছে তা অকল্পনীয়। এটাকে প্রলয়ঙ্করী বললেও ঠিক বোঝানো যায় না। সিলেট বিভাগের উজানে ভারতের মেঘালয় এবং আসামে অস্বাভাবিক বৃষ্টি হয়েছে। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে তিন দিনে ২ হাজার ৫০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১২২ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। মেঘালয় ও আসাম পাহাড়ি এলাকা। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত ভাটির দিকে সমতল ভূমি সুনামগঞ্জ-সিলেটে প্রবেশ করে প্লাবিত করেছে। এ অঞ্চলের হাওর এবং নদীগুলোর স্বাভাবিক বন্যার পানি ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ পানি ধারণ এবং পরিবহনের ক্ষমতা এসব হাওর বা নদীগুলোর নেই। ফলে পানি ফুলে-ফেঁপে উঠে গ্রাম, শহর, নগর, সড়ক-মহাসড়ক প্লাবিত করেছে।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020