1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গায় আছে ৭৫ শকুন
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন




হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গায় আছে ৭৫ শকুন

মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ
    আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২:০২:৩২ অপরাহ্ন

দেশে শকুনের সংখ্যা ২৬০, এরমধ্যে ৭৫টি শকুনই রয়েছে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গায়। এক সেমিনারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এর প্রকল্প পরিচালক সারোয়ার আলম।

শকুন বাঁচাতে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের প্রথম শনিবার পালন করা হয় আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস। বন বিভাগের সুফল প্রকল্পের অধীন আইইউসিএন দেশে ২০১৪ সাল থেকে শকুনের পরিচর্যা নিয়ে কাজ করছে।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে জানানো হয়, তিন দশক আগেও গ্রামগঞ্জের যেখানে-সেখানে শকুনের দেখা মিলতো। ঝাঁক বেঁধে শকুনকে মরা গরু খেতে দেখা যেতো। এদৃশ্য এখন বিরল। প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতা প্রাণী হিসেবে পরিচিত শকুন এখন বিলুপ্তির পথে। সারা দেশে শকুনের প্রজনন হার অপরিবর্তিত থাকলেও হবিগঞ্জ জেলার রেমা-কালেঙ্গা বনে প্রজনন হার বেড়েছে।

২০১৪ সালে এ অঞ্চলে প্রজননহার ছিল ৪৪ শতাংশ, এখন তা ৭১ শতাংশ। এটাকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

আইইউসিএন প্রকল্প পরিচালক সারোয়ার আলম জানান, একসময় দেশে সাত রকমের শকুন দেখা যেতো। এখন মাত্র বাংলা শকুনকে দেখা যায়। এ শকুনের জন্য দুটি স্থানকে নিরাপদ আবাসস্থল বলা হয়। তার একটি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা এবং অপরটি খুলনার সুন্দরবন।

এ অঞ্চলকে শকুন বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে গবেষকেরা বলছেন, শকুন সাধারণ আবাস গড়ে তুলতে বড় গাছগাছালি বেছে নেয়। বিশেষ করে গর্জন ও বনাকগাছ তাদের পছন্দ।

রেমা-কালেঙ্গায় এ ধরনের গাছগাছালি থাকায় শকুন নিরাপদ স্থান হিসেবে ওই স্থানকে বেছে নিয়েছে। শকুন শীত মৌসুমে প্রজনন বৃদ্ধি করে। ঠিক তখনই রেমা-কালেঙ্গা বনে শকুনের আনাগোনা একটু বাড়ে। এ শকুনগুলোকে মানুষের উপদ্রব থেকে বাঁচাতে ও নিরাপত্তা দিতে কাজ করে আইইউসিএন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিষয়বস্তু উপস্থাপনা করে হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

এতে বক্তব্য রাখেন- হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তার শিমুল, রোটারিয়ান মিজানুর রহমান শামীম, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি রাসেল চৌধুরী, বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, হবিগঞ্জ টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হালিম, ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

গবেষকেরা বলছেন- বিরূপ পরিবেশ, নিরাপত্তার অভাব ও খাদ্যসংকটে শকুন বিলুপ্তির পথে। পাশাপাশি পশুচিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কিটোপ্রোফেন জাতীয় ওষুধের ব্যবহারও শকুন বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ। কারণ, এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে যে পশু মারা যায়, সেগুলো শকুন হজম করতে পারে না। ফলে ওই পশু খাওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে মারা যায় শকুন। তাই সরকার পশুচিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কিটোপ্রোফেনজাতীয় ওষুধ ২০২১ সাল থেকে নিষিদ্ধ করেছে।

হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, শকুন প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করা বর্জ্যভুক প্রাণী। এটি শুধু প্রকৃতিকে পরিষ্কারই রাখে না, জীবাণুমুক্তও রাখে। অ্যানথ্রাক্সের মতো ভাইরাস খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে এ শকুন। শকুন বাঁচাতে এর বংশবৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ খুব জরুরি।

রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চল ও খুলনার সুন্দরবনকে সরকার শকুনের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ঘোষণা করেছে। আরও ভালো খবর, সরকার দেশে গরুতে কিটোপ্রোফেন জাতীয় ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ নিষিদ্ধ করেছে। এতে শকুনকে রক্ষা করা যাবে।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020