1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  3. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  4. mahmudbx@gmail.com : Monwar Chaudhury : Monwar Chaudhury
🔴 নষ্টভ্রষ্ট লুটেরা রাজনীতির বিপরীতে চাই দেশপ্রেমিক প্রগতিশীলদের ঐক্য
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন




🔴 নষ্টভ্রষ্ট লুটেরা রাজনীতির বিপরীতে চাই দেশপ্রেমিক প্রগতিশীলদের ঐক্য

রুহুল কুদ্দুস বাবুল ◼️
    আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২২, ১:৫১:২৩ অপরাহ্ন
  • ◼️স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করেছে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়া স্বাধীনতা। মরনপণ যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী মুক্তিযোদ্ধারা যে কাঙ্খিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশ আজও তার উল্টোপথ ধরে চলছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-ধারা ও রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্ষমতাসীন সরকার গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের অধীনস্থ পুঁজিবাদের নির্মম নীতি মুক্তবাজারি ধারায় রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। দেশের সামগ্রিক সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবস্থা দিনদিন শুধু খারাপের দিকেই যাচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার সংকট তীব্রতর হচ্ছে। নিত্যপন্যের মূল্য আজ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ধনিরা ধনি হচ্ছে আর দরিদ্র মানুষের সংখ্যা রাড়ছে। এক চরম বৈষম্যমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। রাষ্ট্রকে আজ প্রচণ্ড নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। লুটপাট, শোষণ- বৈষম্যে, অগণতান্ত্রিকতাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাস্ট্রীয় নীতি হিসাবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন “আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, এদেশের মানুষের অধিকার চাই”। যে অধিকারের কথা তিনি বজ্রকন্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন তার মূল কথাই ছিল গণতন্ত্র। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মূল চেতনাও ছিল গণতন্ত্র। আমাদের মুক্তি সংগ্রামটাও শুরু ৫২ সালেই। রাস্ট্রভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়েই স্বাধিনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। এখানে একটি তথ্য উল্লেখ করতে চাই- ১৯৪৮ সালে সমগ্র পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৯০ লক্ষ। এর মধ্যে-বাংলাভাষী- ৪ কোটি ৪০ লক্ষ অর্থাৎ ৫৫.৭০% উর্দুভাষী(হিন্দিসহ) ১৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ২.৫০% উর্দু, হিন্দি, পাঞ্জাবী, সিন্ধি, পশতু, বালুচি, ও ব্রাহুই ভাষাভাষী সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ ৪৪.৩০%।

এ পরিসংখ্যান থেকে সুস্পষ্ট হয় পাকিস্তানের শাসকগোষ্টির সংখ্যালগিষ্টের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্টের উপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা সংখ্যাগরিষ্ট বাঙালি রক্তদিয়ে প্রতিহত করলো। এটাই ২১ ফেব্রুয়ারীর তাৎপর্য। এটা নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। এ সংগ্রামের পথ বেয়ে ৫৪-এর নির্বাচন থেকে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর সাধারণ নির্বাচন। বাঙালির ভোটে জয়লাভ। শাসকগোষ্টির ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা, কুটকৌশল, অস্ত্রের মাধ্যমে, বুলেটের মাধ্যেমে অধিকার বঞ্চিত করার অপচেষ্টা বাঙালি অস্ত্রের মাধ্যমে চরম আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে রুখে দিল। বাঙালি জাতি ৫২ থেকে ৭১, গণতন্ত্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের তরবারী শাণিত করেছিল। আন্দোলন সংগ্রামের পথ চলতে চলতে একজন নেতার আবির্ভাব, যিনি অধিকার বঞ্চিত একটি জাতির হৃদয়ের আকাঙ্খা নিজের হৃদয়ে ধারন করেছিলেন। নিজে জেল জুলুম অত্যাচার ভোগ করেছেন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি যখন বাঙালির হৃদয়ের কথা উচ্চারণ করলেন কবিতার মতো।

নির্বাচনে জয়লাভ করেও জাতীয় দাবির প্রশ্নে আপোষ করলেন না। হুঙ্কার দিয়ে বললেন “আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাইনা, এদেশের মানুষের অধিকার চাই”। অধিকার বঞ্চিত মানুষ শক্তি পেলো, ভরসা পেলো, মনোবল দৃঢ় হলো, চুড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়ে গেলো। নেতা আরও বললেন “আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে”। বাঙালির বাশের লাঠি আছে, শ্লোগান উঠলো ‘বাশের লাঠি তৈরি করো, বাংলাদেশ স্বাধিন করো’। নেতাও বলে দিলেন-“এবারের সংগ্রাম স্বাধিনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম”। বাঙালির মনের কথা আকাশে বাতাসে স্ফুলিংগের মত ছড়িয়ে গেল। স্বাধিনতা ও মুক্তির জন্য যুদ্ধই শেষ কথা। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। চরম আত্মদান করতে হলো। ৩০ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আর ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হলো স্বাধীন বাংলাদেশ। গণতন্ত্রের জয় হলো।

মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে গণপরিষদে গৃহিত হলো মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের এগিয়ে চলার দলিল। পৃথিবির গণতন্ত্রের ইতিহাসের মাইল ফলক ৭২ সালের গণতান্ত্রিক সংবিধান। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো ‘গণতন্ত্রই এই জাতিরাস্ট্রের অগ্রগতির পথ’।

৭৫-এ জাতির পিতার নির্মম হত্যার মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিল, সুযোগ পেয়েও আর সে পথে ফেরা হয়নি। ক্ষমতাপাগল নষ্ট ভ্রষ্ট লুটেরা দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির কন্টকে আকীর্ণ সেই পথ। স্বাধীন বাংলায় গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হলো গণতন্ত্র পুণরোদ্ধােরের জন্য। সংগ্রাম সফল হলো আবারও রক্ত দিয়ে। কিন্তু নির্মম সত্য হলো জনগণ পরাজিত, গণতন্ত্রের নামে মস্করা তামাশা চলছে। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াইয়ের শহীদ সেলিম, দেলওয়ার, নূর হোসেনদের আত্মা আজ নিভৃতে কাঁদে। ৮০’র দশকের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বিজয়ও ছিনতাই হয়ে গেল। আবার লুটেরা ধনিক, আমলাতান্ত্রিক এলিট আর চরিত্রহীন রাজনৈতিক এলিটদের কবলে দখলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ।

সুশাসনের জন্য গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। দূর্নীতিমুক্ত সমাজের জন্য গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। জবাবদীহিতা না থাকলে সরকারের অঙ্গগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠে। কায়েমী স্বার্থবাদীগোষ্ঠি শক্তিশালী হয়। মানবতাবিরুধী শক্তির ডালপালা গজায়। জনগণ নিয়ন্ত্রণ হারায়। অপরাজনীতি আর অপসংস্কৃতির চর্চা হয়, গণতন্ত্রের নামে চলে কর্তৃত্ববাদী দুঃশাষণ। তাই গণতন্ত্র চাই, গণতন্ত্রের পথেই চলতে হবে। ৫২ থেকে ৭১ সেই শিক্ষাই দিয়েছে। গণতন্ত্র- গণতন্ত্র- গণতন্ত্র। একমাত্র গণতন্ত্রই মুক্তির পথ। ৫২, ৬২, ৬৯ সর্বোপরি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ নির্ধারণ করেছে গণতন্ত্রই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার একমাত্র পথ। এজন্য দরকার দেশপ্রেমিক বিপ্লবী ধারার রাজনীতি। যে রাজনীতি জনগণের অধিকার হরন করবেনা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। সেই রাজনীতি অনুপস্থিত।

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দেশ পরিচালনার জন্য বিপ্লবী গণতান্ত্রিক শক্তি বা সংগঠনের প্রয়োজন। এ সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে এ ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে কে ?

দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পথ বেয়ে আজ যে শক্তির দৃপ্ত পদচারণা থাকার কথা সে শক্তি আজ দুঃখজনকভাবে অনুপস্থিত। যারা ৫২ থেকে ৭১ এদেশের মানুষকে জাগিয়ে ‘মুক্তির জন্য স্বাধীনতা’ এই মন্ত্রে উজ্জ্বীবিত করেছিলেন তাদের কথাই বলছি- যারা ভাসানী, মুজিব, মোজাফ্ফর, মনি সিং-এর অনুসারী। যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় উজ্জীবিত তারা যতক্ষণ এদেশের রাজনীতিতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে না পারছে ততক্ষণ দেশের শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের স্বার্থরক্ষা হবে না।
নষ্টভ্রষ্ট রাজনীতির বদলে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠা করে রাজনীতিতে জনগণের আস্থা ফরিয়ে আনতে হবে। সমাজবদলের সংগ্রামে বা সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করতে মুক্তমনা-গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসীদের ঐক্য এখন সময়ের দাবী। যারা এ কাজটি করতে উদ্যোগী হওয়ার কথা, ভুমিকা রাখার কথা তারা তেমন কোনো ভূমিকা রাখছেন না বা রাখতে চান না। শুধু ঐতিহাসিক তত্ত্বের চর্চায় ব্যস্ত।

আজ উপলব্ধির সময় এসেছে প্রগতিশীল রাজনীতির দুর্বলতার কারণে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুবিধাবাদ, ভোগবাদ আর আত্মকেন্দ্রিকতা জেঁকে বসেছে। এখনই সময় প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির বহুধারাকে একধারায় প্রবাহিত করা। সমস্ত অনাচারের বিরদ্ধে একটা গণজাগরণ তৈরী করা।

রুহুল কুদ্দুস বাবুল
৫ মার্চ ২০২২
সিলেট।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020