1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. banglanews24ny@gmail.com : App Bot : App Bot
  3. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  4. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  5. islam_rooney@ymail.com : Ashraful Islam : Ashraful Islam
  6. rumelali10@gmail.com : Rumel : Rumel Ali
  7. Tipu.net@gmail.com : Ariful Islam : Ariful Islam
পাহাড়ে পাখির গ্রাম
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন




পাহাড়ে পাখির গ্রাম

বাংলানিউজ ২৪ এনওয়াই ডেস্ক, এম.এস
    আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪১:১৪ পূর্বাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পাহাড় জুড়ে শীতের আমেজ। এর মাঝে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির জলাভূমিতে আসতে শুরু করেছে শামখোল, চখাচখিসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি। পার্বত্য চট্টগ্রামের বড় অংশ জুড়ে কাপ্তাই লেকের বিশাল জলাধার। আয়তন প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার। ছোট হরিণা থেকে শুরু করে জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, লংগদু ও বাঘাইছড়ি পর্যন্ত লেকের বিস্তৃতি।

পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আরেক জনপদ বাঘাইছড়ির ‌‘উগলছড়ি’ বিল। দেশের সর্ববৃহৎ সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘাইছড়ির পাহাড় ও জলে ঘেরা উগলছড়ি গ্রাম এখন পরিযায়ী পাখির কলরবে মুখরিত।

পানি কমে যাওয়ায় বিলের উঁচু জায়গা ভেসে উঠেছে। ভেসে ওঠা জমিতে চলছে ধানের আবাদ। বিলের জলের অংশে চলছে মাছ শিকার। ছোট বড় মাছ আছে এই বিলে। মাছ ধরায় ব্যস্ত স্থানীয়রা। ছোট মাছ, ঝিনুক ও শামুক খুঁজতে এখানে শীতে ভিড় করে নানা ধরনের পাখি। পাখি শিকার বন্ধ হওয়ায় এখানে দেখা মিলে পাখির ঝাঁক। উগলছড়ি এখন পাখির গ্রাম।

খাগড়াছড়ি থেকে উগলছড়ি যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। সকালের কুয়াশা মোড়ানো স্নিগ্ধতা হবে সঙ্গী। বাঘাইছড়ির আঁকাবাঁকা পথ। দূর সীমানায় সবুজ পাহাড়। অবশ্যই পাহাড়ে এখন বিবর্ণতার ছাপ। তবে পথের ধারে রাবার বাগানের সব পাতা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। শীতে এখানকার এমনই রূপ।

পুরোটা সরু পথ। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে এক ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যাবে বাঘাইছড়ি বাজারে। রাঙামাটির অন্যতম পুরানো জনপদ বাঘাইছড়ি। এখানকার বাসিন্দাদের জেলার সঙ্গে যাতায়াতের প্রধান উপায় দেশি বোট বা লঞ্চ। তবে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে দ্রুত গতির স্পিডবোট। প্রতি জনের ভাড়া গুনতে হয় প্রায় ৮শ টাকা। সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা।

গ্রামের পথে পথে যেন অনিন্দ্য প্রকৃতিতে মোড়ানো একটি জনপথ। গ্রামের ভেতর পিচঢালা পথ। পাহাড়ের ছোট ছোট পাড়া ও গ্রামের অকৃত্রিম প্রকৃতির উপস্থিতি। চেনা অচেনা পাখির কলতান চারপাশে। মাঝে মাঝে নিরবতাজুড়ে আসে।

নিউ ল্যাইল্যঘোনার এই গ্রামে রয়েছে একজন ওমর আলী। তিনি পাখির রক্ষক হিসেবেই পরিচিত। গ্রামের লোকজন জিজ্ঞেস করতেই তার বাড়ির পথ দেখিয়ে দেয়। তার বাড়ির চারপাশে অসংখ্য বৃক্ষরাজি। এই দৃশ্য দেখেই বোঝা যায় এখানে পাখিরা কতটা নিরাপদ। প্রায় ২৭ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো পাখি আগলে রেখেছেন তিনি এবং তার পরিবার।

ওমর আলী জানান, ‌‘পাখিরা এখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসে। তারা আমার সন্তানের মতো। কোনো দিন কাউকে পাখি হত্যা করতে দিইনি। অনেক সময় পাখির-বাচ্চা বাসা থেকে নিচে পড়ে গেলে তাদের সেবা করে সুস্থ করে তুলি। এরকমভাবে অনেক পাখির জীবন বাঁচিয়েছি। তিনি আরো বলেন, শীতে পাখির আনাগোনা বেশি। এখানে বক, পানকৌড়ি, শামখোল, কাঠশালিক, শালিকসহ বিভিন্ন জাতের পাখি আশ্রয় নেয়। নিরাপদ বলেই প্রায় ২৭ বছর ধরে পাখিরা এখানে বসতি গড়ে তুলেছে।

ছোট ছোট দ্বীপে জলের ধারে পানকৌড়ি আর শামখোলের ঝাঁক চোখে পড়ে। নীল আকাশে দলছুট চিলের উড়াল। মুগ্ধ করা চখাচখি মানিকজোড়ের মতো শীতল জলে চুপ করে বসে আছে।

বিলের অগভীর জল দিয়ে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছে রাখাল। প্রকৃতির এমন দৃশ্যপটে মুগ্ধ হবে যেকোনো পথিক। পুরো বিলজুড়ে শামখোল, বড় বক আর পানকৌড়ির রাজত্ব। চারপাশে নীল জলরাশি জুড়ে শীতের মিষ্টি কুয়াশা। দূরের পাহাড়গুলোকে নীল মেঘ অবারিত জলরাশিকে নিজের রংয়ে রাঙিয়ে দিয়ে ভেসে বেড়ায়। জলের বুকে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে পরিযায়ী পাখির ঝাঁক।

রাঙামাটির উগলছড়ি। পানি ঘেরা এই গ্রামে শীতে বসে পরিযায়ী পাখির মেলা।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020