1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. banglanews24ny@gmail.com : App Bot : App Bot
  3. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  4. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  5. islam_rooney@ymail.com : Ashraful Islam : Ashraful Islam
  6. rumelali10@gmail.com : Rumel : Rumel Ali
  7. Tipu.net@gmail.com : Ariful Islam : Ariful Islam
(স্মরণ) আজি তব আবির্ভাবে
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন




(স্মরণ) আজি তব আবির্ভাবে

সচ্চিদানন্দ কৃষ্ণ দাস ( সজল) :
    আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৩:০১ পূর্বাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ( ইসকন)এর অন্যতম দীক্ষাগুরু এবং জি.বি.সি। যিনি ১৯৪৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কুঠি নামক গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত সনাতন জমিদার পরিবারে আর্বিভূত হন। তাঁর বাল্য নাম ছিল কিশোর কুমার দাশ। পিতা কুমুদরঞ্জন দাশ পেশায় ছিলেন একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং মাতা চিন্ময়ী দেবী ছিলেন গৃহিণী। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে কিশোর কুমার ছিলেন মেজো।ছোটবেলা থেকেই কিশোর কুমার ছিলেন প্রখর মেধাবী এবং ধর্মের প্রতি বিশেষ অনুরাগী। তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতি তীব্র আকর্ষণ দেখে তাঁর ঠাকুরদাদা বলেছিলেন “তুই একদিন মহান গুরু হবি।”

যাহোক ছোট্র কিশোরকে নিয়ে তাঁর পিতা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া থেকে সপরিবারে কলকাতা চলে যান এবং কলকাতায় বনেদীপাড়া নামে খ্যাত ডোভার লেনে বসবাস করতে শুরু করেন।

কিশোরের বয়স যখন মাত্র সাত বছর তখন তাঁর মা মারা যান।মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর পিতার আর্থিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। ফলে তাঁর পিতার পছন্দের তালিকায় থাকা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত বিখ্যাত বোডিং স্কুলে তাঁকে আর ভর্তি করা হয় নি। ফলে কিশোরকে ভর্তি করে দেওয়া হয় স্থানীয় এক সাধারণ স্কুলে। কিন্ত এ স্কুলে ভর্তি হয়ে তিনি লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলশ্রুতিতে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ত্রিপুরার খোয়াই নামক ছোট্র একটি শহরে যেখানে তাঁর মেজো কাকা বসবাস করতেন। সেখানে থেকেই স্কুল কলেজের পাঠ শেষে ত্রিপুরার নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। একইসাথে ঘটনাক্রমে ফ্লাইং ট্রেনিং এর একটি স্কলারশিপ পেয়ে যান এবং ১৯৭০ সালে ফ্লাইং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তারপর জার্মানিতে তাঁর প্রযুক্তিবিদ্যা সমাপ্ত করেন। কিন্তু কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স পাবার মতো অার্থিক অবস্থা না থাকার কারণে পাইলট হবার স্বপ্ন আর পূরণ হয় নি। ফলে তিনি অনেকটা ভেঙ্গে পড়েন। কিন্তু জড় জাগতিক বাসনার অতৃপ্ত সাধনা পরবর্তীতে তাঁকে পারমার্থিক জীবনের পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করে। ফলশ্রুতিতে তিনি ১৯৭৪ সালে পারমার্থিক যাত্রা শুরু করেন। এবং ১৯৭৫ সালে পারমার্থিক পথে অগ্রসরের নিমিত্রে সদগুরুর অনুসন্ধানে জার্মানী থেকে নিজ বাসভূমি ভারতে ফিরে আসেন। ভারতে ফিরে তিনি সদগুরুর সন্ধানে হরিদ্বার, বেনারস, হিমালয়সহ বিভিন্ন তীর্থ স্থান ঘুরতে থাকেন। সে পরিক্রমায় বহু সাধু সন্ন্যাসিদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু কোথাও সদগুরুর সন্ধ্যান না পেয়ে অবশেষে গুরু অন্বেষণ বিরত রাখেন।

হঠাৎ একদিন বাড়ীতে তাঁর বন্ধু প্রসূন এসে উপস্থিত হলেন। যিনি জার্মানিতে ইসকনের সাথে যুক্ত হয়ে কৃষ্ণভক্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর দীক্ষিত নাম ছিল সর্বভাবনা দাস। সেই বন্ধু তাঁকে কলকাতা ইসকন মন্দিরে নিয়ে যান এবং কয়েকজন ভক্তের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। সে সময়ে মন্দিরের একজন সাধু তাঁকে একটি গ্রন্থ উপহার হিসেবে দেন। যা ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য ভক্তিবেদ্বান্ত স্বামী প্রভুপাদের ইংরেজী অনুবাদকৃত শ্রীল রুপগোস্বামী প্রভুপাদের লিখিত “ভক্তিরসামৃতসিন্ধু”। গ্রন্থটি পড়ে তাঁর ভীষণ ভাল লাগে কারণ তাঁর মনের সবগুলো প্রশ্নের যথাযথ উত্তর তিনি এই গ্রন্থের মধ্যেই পেয়েছিলেন।যাহার সন্ধান তিনি এতদিন করছিলেন ।তখন গ্রন্থের অনুবাদকারীর দর্শন লাভের জন্য তাঁর মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে ইসকন মায়াপুর মন্দিরে যোগদান করেন এবং শ্রীল প্রভুপাদের দর্শন লাভ করে তাঁর শ্রীপাদপদ্মে নিজেকে সমর্পণ করেন। ১৯৭৭ গৌরপূূণিমার দিন শ্রীল প্রভুপাদ তাঁকে একই সাথে হরিনাম দীক্ষা এবং গায়ত্রী দীক্ষা প্রদান করেন। হরিনাম দীক্ষাগ্রহণকালে প্রভুপাদ তাঁর নাম দেন ক্ষীরচোরা গোপীনাথ দাস। একই বছর জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা মহোৎসবের দিন বৃন্দাবনে শ্রীল প্রভুপাদ তাঁকে সন্ন্যাস দীক্ষা প্রদান করেন। সন্ন্যাস গ্রহণকালে প্রভুপাদ তাঁর নাম দেন শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ। তারপর ১৯৮৭ সালে তিনি ইসকন গভর্ণিং বডি কমিশন (জি.বি.সি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তাঁর গুরুদেব শ্রীল প্রভুপাদের জীবনীমূলক ১০৪ পর্বের টিভি ধারাবাহিক ‘অভয়চরণ ‘প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন। যাহা পরবর্তীতে ভারতের দূরদর্শন টিভি চ্যানেলে ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হয়।ভারতের তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী উমা ভারতীর অনুুুুরোধে ২০০৬ সালে ভারতের উজ্জ্বয়নি শহরে অত্যন্ত সুন্দর ও সুবিশাল মন্দির স্থাপন করেন। এছাড়াও বৈদিক সাহিত্যের উপর রচিত প্রভুপাদের পঞ্চাশটির ও বেশি গ্রন্থের ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন।

২০১৬ সালে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘করুণাসিন্ধু ‘প্রকাশিত হয় ।প্রকট থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, শ্রী উজ্জ্বয়নী , পুরীধামসহ উড়িষ্যার গর্ভণিং বডি কমিশনার ( জি.বি.সি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, মা ও শিশু পুষ্টি, ধর্মীয় বিষয়ের উপর জাতীসংঘসহ বিভিন্ন সভা সেমিনারে সারগর্ভ বক্তব্য প্রদান করে থাকেন।

অসাধারণ প্রতিভাশীল ও আধ্যাত্মিক চেতনায় উদ্ভাসিত মহান এই অাচার্যদেব ২০২০সালের ৪ঠা জুলাই আমেরিকার ফ্লোরিডায় গুরু পূর্ণিমা তিথিতে এই জড় জগৎ থেকে বিদায় নিয়ে ভগবানের নিত্যলীলায় প্রবেশ করেন ।পরবর্তীতে ১৩ জুলাই তাঁর দেহাবশেষ ভারতে এনে শ্রীধাম মায়াপুর ধামে গুরপূর্ণিমার শুভ তিথিতে সমাধিস্থ করা হয়।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর মহান এই আচার্যদেবের ৭৬ তম শুভ আর্বিভাব তিথি ব্যাসপূজা।গুরুমহারাজের আবির্ভাব তিথিতে তাঁর শ্রী পাদপদ্মে জানাই অনন্তকোটি প্রণাম। একই সাথে আজ বিশ্ব হরিনাম দিবস ।হরিনামের বন্যায় জগৎ প্লাবিত হোক।জয় গুরুমহারাজ।
লেখক
সচ্চিদানন্দ কৃষ্ণ দাস ( সজল)
কলাম লেখক

মোবাইল:০১৭২৮৬০৬৬৫৭

ইমেইল-sajalchanda03@gmail.com 




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020