1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. banglanews24ny@gmail.com : App Bot : App Bot
  3. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  4. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  5. islam_rooney@ymail.com : Ashraful Islam : Ashraful Islam
  6. rumelali10@gmail.com : Rumel : Rumel Ali
  7. Tipu.net@gmail.com : Ariful Islam : Ariful Islam
পরিযায়ী পাখির আগমন : মুখরিত টাঙ্গুয়ার হাওর
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন




পরিযায়ী পাখির আগমন : মুখরিত টাঙ্গুয়ার হাওর

শামছুল আলম আখঞ্জী,তাহিরপুর
    আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ৬:০৯:৩৭ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরিযায়ী পাখির অগনন আগমনে মুখরিত এখন টাঙ্গুয়ার হাওর।পরিযায়ী পাখির আগমনে হাওর এখন পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে অপরূপ সাজে সজ্জিত। মূলত শীতের সময় টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখির আগমন প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক নিয়ম।

প্রতিবছরই শীতকালীন ঋতুতে সাইবেরিয়া মঙ্গলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অধিকাংশ অঞ্চল বরফে ঢাকা থাকে। তাই সেসব অঞ্চলের পাখিগুলো অপেক্ষাকৃত উষ্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে খাদ্যের সন্ধানে। একই কারণে আমাদের দেশের টাঙ্গুয়ার হাওর সহ বিভিন্ন হাওরে শীত মৌসুমে প্রতি বছরই রং-বেরঙের বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।

বিভিন্ন তথ্যসুত্রে জানাযায় একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখির অবস্থান ছিল।এর মধ্যে ৯৮প্রজাতির পরিযায়ী, ১২১প্রজাতির দেশি ও ২২প্রজাতির হাঁসজাত পাখির বিচরণ করতো।কিন্তু সূত্রমতে জানাযায় গেল বছর টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখি শুমারিতে ৫৩ হাজার প্রজাতির ৫১হাজার ৩৬৮টি জলচর পাখি পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে শুক্রবার (৩ডিসেম্বর)টাঙ্গুয়ার হাওরের ল্যাচুয়ামারা, বেরবেরিয়া,তেকুনিয়া,চটানিয়া সহ বেশ কয়েকটি বিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু পরিযায়ী পাখি উড়াউড়ি করছে।গেল বছরের তুলনায় এ বছর পরিযায়ী পাখির আগমন অনেকটাই কম।তবে এ বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত, ডিসেম্বরে টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখির পরিমাণ কম থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে যাবে। হাওরের পানি যত কমবে জলজ উদ্ভিদ তত ভেসে উঠবে। জলজ উদ্ভিদ এসব জলচর পাখির প্রধান খাবার।খাবার ভেসে উঠলে পরিযায়ী পাখির আগমন বাড়বে।

হাওর পাড়ের সচেতন মহলের অভিযোগ অতিথি পাখির আগমনের শুরুতেই স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মুনাফা লোভী অসাধু চক্র পাখি শিকারের জন্য প্রস্তুত নিচ্ছে। ওরা প্রতি বছরই উচ্চ পাওয়ারি টর্সলাইটের আলো দিয়ে কুচ দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে পাখির উপর ঘাঁ দিয়ে পাখি শিকার করে।তাদের মতে এখন থেকেই এদের দমন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখির আগমন বন্ধ হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন -২০১২ মতে অতিথি পাখি হত্যা সম্পুর্ন দণ্ডনীয় অপরাধ। যে কাউকে এ অপরাধের শাস্তিস্বরূপ ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।একইভাবে কোনো ব্যক্তি যদি পরিযায়ী পাখির মাংস দেহের অংশবিশেষ সংগ্রহ করেন বা দখলে রাখেন অথবা আটক করে ক্রয়-বিক্রয় করেন সেক্ষেত্রে তার ৬মাসের কারাদণ্ড বা ৩০হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন এমন একটি আইন থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিযায়ী পাখি হত্যা বা আটক বন্ধ হচ্ছে না, কারণ, এ আইন সম্পর্কে এখানকার মানুষ সচেতন নয়,এবং এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না।তারা মনে করেন দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই পাখি শিকারিরা টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখি শিকার করে ক্রয় বিক্রয় করতে সাহস পায়। এবং বাবু সাহেবরা তাদের পরিবারের রসনা তৃপ্তির জন্য ক্রয় করে নিয়ে যান এসব অতিথি পাখি।

নির্বিচারে পাখি নিধনের ফলে টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখিগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও পরিবেশ দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। ফলে টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখির আগমন কয়েক বছর ধরে হ্রাস পাচ্ছে।পাখি হল টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতির অলংকার ও আমাদের বন্ধু। এছাড়া কিছু পাখি আছে রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা দুর্গন্ধ আবর্জনা খেয়ে পরিবেশকে বায়ুদূষণ থেকে রক্ষা করে।অনেক পাখি রয়েছে ক্ষেত-খামারের পোকা-মাকড় খেয়ে ভালো ফসল উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা করে।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নিজেদের স্বার্থে অতিথি বা পরিযায়ী পাখি নিধনের মতো অমানবিক কাজ পরিহার করে মানবিক হওয়া প্রয়োজন এবং পাখিদের জন্য প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা খুবই জরুরি অন্যথায় পৃথিবী হতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অন্যান্য প্রাণীর মতো পক্ষীকূলেও একদিন বিলুপ্তির পথে চলে যাবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রায়হান কবির জানান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে।তিনি বলেন বন্যপ্রাণী আইনে দেশি ও পরিযায়ী বা অতিথি পাখি এবং প্রাণী শিকার সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। শিকারিদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020