1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. banglanews24ny@gmail.com : App Bot : App Bot
  3. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  4. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  5. islam_rooney@ymail.com : Ashraful Islam : Ashraful Islam
  6. rumelali10@gmail.com : Rumel : Rumel Ali
  7. Tipu.net@gmail.com : Ariful Islam : Ariful Islam
সিলেটে উন্নয়ন বিড়ম্বনা : উড়ছে ধুলো,বাড়ছে দুর্ভোগ
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন




সিলেটে উন্নয়ন বিড়ম্বনা : উড়ছে ধুলো,বাড়ছে দুর্ভোগ

দিপালী রায়
    আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ৮:১০:৪৪ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিনহাজুল ইসলাম পেশায় একজন ব্যাংকার। নগরীর শিবগঞ্জস্থ ফরহাদ খাঁ পুল সংলগ্ন বাসা থেকে কর্মস্থল নগরীর বন্দরবাজারে যাতায়াত করেন রিক্সা দিয়ে। আসা-যাওয়ার পুরো পথটুকুই সারাক্ষণ ধুলোময়। সামান্য পথ রিক্সা মাড়িয়ে অফিসে যাতায়াত করলেও গোসল করে বের হওয়া মিনহ্জাুল ইসলামের পরিহিত কাপড়সহ মাথার চুল অবধি বিবর্ণ হয়ে উঠে। বিশেষ করে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে নাইওরপুল সড়ক পর্যন্ত ধুলোময় সড়কের ভোগান্তির কবলে পড়েন তিনি। ধুলোময় সড়কের ভোগান্তি শুধু মিনহাজুলের নয়, চাকুরীজীবী,স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী থেকে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের। আর ধুলোময় সড়কের অবস্থা শুধু এই সড়কেই সীমাবদ্ধ নয়,এই দৃশ্য নগরীর অধিকাংশ সড়কের।

শুক্রবার সরেজমিন নগরীর কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, স্থানে স্থানে জমাকৃত মাটির স্তুপ। সড়ক খুঁড়ে রাখা মাটির স্তুপ থেকে চারদিকে উড়ছে ধুলোবালু। পথচারীরা চলাচল করছেন নাকে-মুখে কাপড় গুঁজে। ধুলার আস্তরণ পড়ছে শরীরে। ধুলোময় শহরে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে আশপাশের গাছের পাতাও। এর সাথে বাড়ছে বায়ু দূষণের মাত্রা।

অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই বাড়ছে নগরবাসীর দুর্ভোগ। তাদের দাবি-একটি উন্নয়ন প্রকল্প কাজ শেষ না হতেই শুরু হয় আরেকটি প্রকল্পের কাজ। সড়কে চলে রাত-দিন খোঁড়াখুঁড়ি। এভাবেই কেটে যায় বছর, কিন্তু শেষ হয় না খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। এমন বছর নেই, যে বছর খোঁড়াখুঁড়ির কাজ হয় না। তবুও সমস্যার সমাধান হয় না।

এদিকে কয়েক মাস ধরে নগরীর নাইওরপুল-টিলাগড় সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। প্রথমদিকে সড়ক খুঁড়ে ড্রেন নির্মাণ কাজ চললেও এখন আরেক দফা খনন চলছে। সড়ক খুঁড়ে মাটির স্তুপ রাখা হয়েছে সড়কেই। কোথাও কোথাও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনেও রাখা হয়েছে মাটির স্তুপ। এতে করে ব্যবসারও ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি ধুলো উড়ছে সমান তালে। সড়কের একাংশজুড়ে মাটির স্তুপ থাকায় যান চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে। লেগে থাকছে যানজট। ভাঙাচোড়া সড়কের এই সংস্কার কাজ প্রায় সাতমাস আগে শুরু হলেও খোঁড়াখুড়ি ছাড়া কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। কিছু কিছু স্থানে ইটের সুড়কি ফেলা রাখা হয়েছে। কিন্তু যানবাহনের চাপে সেগুলো সরে গিয়ে ফের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন জানায়, নগরীর ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে সাতমাস আগে দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথমদিকে বৃষ্টি থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। দুটি প্রকল্পের মধ্যে নগরীর উপশহর পয়েন্ট থেকে তামাবিল রোড, উপশহর ই-ব্লক, লামাবাজার পয়েন্ট থেকে টিলাগড় পয়েন্ট, শিবগঞ্জ আকবরি মসজিদ থেকে বালুচর, রেলওয়ে বাইপাস, হুমায়ন রশিদ চত্ত্বর, নাইরপুল পয়েন্ট থেকে শাহী ঈদগাহ র্র্পযন্ত ১০.৬ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের জন্য ১১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

অন্য একটি প্রকল্পে নগরীর ভিআইপি রোড, নবাব রোড, আম্বরখানা-সাপ্লাই, বড়বাজার রোড, নয়াসড়ক থেকে উচা সড়ক, আম্বরখানা থেকে সুবিদবাজার গ্রুপ ৮.৮ কিলোমিটার সড়কের জন্য ৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই দুই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের ২৫ জুন। আগামী বছরের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হবে।
বেশি ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে নাইওরপুল-টিলাগড় সড়কের শিবগঞ্জ এলাকা। একই অবস্থা আম্বরখানা-শাহি ঈদগাহ সড়কের আম্বরখানা, ইলেকট্রিক সাপ্লাই ও শাহী ঈদগাহ এলাকাও। এছাড়া নগরীর শামীমাবাদ, মজুমদারপাড়া, বন্দরবাজার, সোবহানীঘাট, উপশহর, লোহারপাড়া, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ধুলোবালি বেশি উড়ছে আম্বরখানা, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, শাহি ঈদগাহ, কুমারপাড়া, বালুচর, পাঠানটোলা, মদিনা মার্কেট, মির্জাজাঙ্গাল, লামাবাজার, নাইওরপুল, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, সোবহানীঘাট, শাহজালাল উপশহর, দক্ষিণ সুরমার পুরাতন রেলওয়ে, কদমতলী এলাকার সড়কগুলোতে।

মীরাবাজারের ব্যবসায়ী তানজিম হোসেন বলেন, কিছুদিন পরপর রাস্তা খুঁড়াখুঁড়ি করে সিসিকের লোকজন। কাজ পুরোপুরো শেষ না করেই রাস্তায় উপরে মাটি রেখে চলে যায়। দিনের পর দিন মাটির স্তুপ থাকে দোকানের সামনে। সরানোর গরজ থাকে না সিসিক কর্তৃপক্ষের। প্রতিদিনই ধুলাবালি নিয়েই ব্যবসা করতে হয়।’ তিনি দোাকানের কয়েকটি পণ্য বের করে দেখিয়ে বললেন, ‘গতকাল মাল এসেছে। কিন্তু এই দেখেন ধুলার আস্তর পড়ে অবস্থা হয়েছে। ক্রেতারা এই প্যাকেট দেখে নিতে চায় না।’

ধুলাবালু শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত। ধুলাবালু থেকে রক্ষার জন্য তিনি সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ দেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম বলেন, ‘নগরজুড়ে প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই প্রকল্পের কাজ চলছে। আগামী বছরের শুরতেই কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘যেসব রাস্তায় উন্নয়ন কাজ চলছে, ওসব রাস্তায় ধুলোবালি একটু বেশি। উন্নয়ন কাজ চলাকালে রাস্তায় পানি ছিটালে কাঁদা মাটিতে পরিণত হবে, তাই কিছু কিছু এলাকায় পানি ছিটানো সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা পানি ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছি। দুই তিন দিনের মধ্যে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু রায় বলেন, ‘ধুলাবালি জনিত প্রধান সমস্যা হচ্ছে সর্দি-কাশি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ধুলাবালি মারাত্মক ক্ষতিকর। ধুলাবালিয়ে শিশুদের পেট খারাপ করে। নাকের এলার্জি সমস্যা, শ্বাস কষ্ট, এলার্জিসহ বিভিন্ন সমস্যা ভোগতে হয়। যারা যক্ষায় রোগে আক্রান্ত তাদের টাইফয়েড রোগ দেখা দিতে পারে। এ থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে মাস্ক ব্যবহার করা। করোনা কারণে মানুষ যেভাবে মাস্ক ব্যবহার করা শুরু করেছে যদি সেভাবে মাস্ক ব্যবহার করেন ও নিয়মিত পানি ছিটানো হয় ধুলাবালি জনিত রোগ থেকে অনেকটা মুক্ত থাকা যাবে।’




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020