1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. banglanews24ny@gmail.com : App Bot : App Bot
  3. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  4. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  5. islam_rooney@ymail.com : Ashraful Islam : Ashraful Islam
  6. rumelali10@gmail.com : Rumel : Rumel Ali
  7. Tipu.net@gmail.com : Ariful Islam : Ariful Islam
ডিজেলচালিত গাড়ির সংখ্যা জানেনা বিআরটিএ : বন্ধ হচ্ছে না ভাড়া নৈরাজ্য
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন




ডিজেলচালিত গাড়ির সংখ্যা জানেনা বিআরটিএ : বন্ধ হচ্ছে না ভাড়া নৈরাজ্য

স্টাফ রিপোর্ট::
    আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ৭:০১:৫৯ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নিয়ে যখন সারাদেশে চলছে প্রতিবাদ ও সমালোচনা, বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা। তখন সিলেট বিআরটি কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে ডিজেল ও সিএনজি চালিত বাসের সঠিক পরিসংখ্যান নেই তাদের কাছে। শুধু তাই নয় ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে নেই মনিটরিং। কোন বাস ডিজেল চালিত আর কোনটি গ্যাসে তা নির্ধারণে নেই কোনো উদ্যোগ। মোট কথা এখনো এই সমস্যা সমাধানে সিলেটে কোনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বিআরটিএ।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়েছিল সরকার। ডিজেলচালিত গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণায় যাচ্ছে তাই সুযোগ নিচ্ছেন সিএনজি চালিত পরিবহনের চালকরা। সিলেটে প্রতিটি সড়কে গণপরিবহণে এমন ভাড়া নৈরাজ্য চলছে প্রতিদিন। গত ৪ নভেম্বর থেকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বেড়েছে। ৭ নভেম্বর সারাদেশে ডিজেল চালিত বাসে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। পরদিন ৮ নভেম্বর থেকে তা কার্যকর করা হয়। তবে যেসব বাস সিএনজি চালিত সেগুলো এই নতুন ভাড়ার
তালিকার মধ্যে থাকবে না। সিএনজি চালিত বাস আগের ভাড়ায় চলবে বলে জানায় বিআরটিএ। কিন্তু বাস্তবে সিলেটে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। ডিজেল ও সিএনজি চালিত বাসে সমপরিমান ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল কদমতলীতে গিয়ে দেখা যায়, আন্তঃজেলার বাসগুলোতে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১টাকা৮০ পয়সার বদলে নেওয়া হচ্ছে ২ টাকা ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ৫৬ পয়সা বেশি করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সিলেট থেকে ঢাকায় পূর্বের ভাড়া ৪৭০ টাকা।

বর্তমানে সেখানে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫৭০ টাকা।সিলেট থেকে ঢাকার দুরত্ব হচ্ছে ২৪১ কিলোমিটার। আবার সিলেট-রংপুরের দুরত্ব হচ্ছে ৫০১কিলোমিটার। সেখানে পূর্বে ভাড়া ছিলো ৮০০টাকা, বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা। প্রতি কিলোমিটারে অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবে নিচ্ছেন ২টাকা। যাত্রীদের অভিযোগ অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। এব্যাপারে শ্যামলী বাস কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার সাথে কথা হলে অতিরিক্ত ভাড়া কেন নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

একই অবস্থা সিলেটের আঞ্চলিক গণপরিবহনে। কোনো তদারকি না থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে গাড়ির হেলপারদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে জকিগঞ্জের সর্বস্তরের জনতা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারনের দাবি জানিয়েছেন।

যাত্রীরা বলছেন, আগে সিলেট থেকে শেওলা-জকিগঞ্জ ৬০ কিলোমিটার সড়কে ভাড়া ভাড়া ছিলো ৭০ টাকা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকায়, রতনগঞ্জ-আটগ্রাম ৭৪ কিলোমিটার সড়কে ভাড়া ৮৫ টাকা এখন ১৩৩ টাকা, জকিগঞ্জ-কালিগঞ্জ ৯০ কিলোমিটার সড়কে আগে ১০৫ টাকা ছিলো এখন তা ১৬২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তাছাড়াও আগে যেখানে ৮ টাকা ভাড়া ছিলো এখন একই দূরত্বের ভাড়া ১৩ টাকা নেয়া হচ্ছে। গ্যাসচালিত ছোট-বড় গাড়িগুলোতেও ভাড়া নৈরাজ্য চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার জকিগঞ্জ যাত্রীকল্যাণ ঐক্য পরিষদের এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।ন্যায্য ভাড়া আদায়ের জন্য ওই সভায় তিনদিনের আল্টিমেটাম প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের দেওয়া তিনদিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে সোমবার। কিন্তু তাদের দাবি ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণের দাবি আদায় না হওয়ায় আজ বুধবার থেকে টানা চার দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিষদের সদস্যসচিব এম আজমল হোসেন।

কর্মসূচিতে-১ডিসেম্বর বিকেল চারটায় কালিগঞ্জ বাজারে প্রতিবাদ সভা, ২ ডিসেম্বর জকিগঞ্জের শাহগলি বাজারে প্রতিবাদ সভা ঘোষণা করা হয়। ৩ ডিসেম্বর জকিগঞ্জের বাবুর বাজারে বিকেল চারটায় প্রতিবাদ সভা, পরদিন আটগ্রাম স্টেশনে বিকেল চারটায় প্রতিবাদ সভা। সিলেটে অবস্থানরত জকিগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ও সবার মতামতের ভিত্তিতে আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

তানভীর আহমদ নামক একজন বলেন, গাড়িতে উঠলে হেলাপার ৫-১০টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। কিছু বললেই বলে উঠেন ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।কোন বাস গ্যাসে চলে আর কোন বাস ডিজেলে চলে বুঝার কোনো উপায় নায়।তাই আমরা যাত্রীরা তাদের কথা মাফিক টাকা দিতে হয়। না দিলে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

তবে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা জিয়াউল কবির পলাশ বলেন, সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কারো কাছ থেকে কোনো ধরণের অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সিলেট-তামাবিল ও সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে আগে গাড়ি ভাড়া কম ছিল। এখন একটু বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বলছেন ভাড়া বেশি নিচ্ছেন।কিন্তু কিলোমিটার হিসাবে ভাড়া ১টাকা ৮০ পয়সা করে নেয়া হচ্ছে। যদি কেউ কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেয় তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় বিআরটিএ সিলেট সার্কেলের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশলী) সানাউল হকের সাথে। তিনি জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা খুব সীমিত মোবাইল কোর্ট করতে পারি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের অভিযান করা হয়নি।
সিলেটে কতটি বাস ডিজেল চালিত রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাদের কাছে সঠিক পরিসংখ্যা নেই।তাছাড়া কিছু দিনের মধ্যে যাত্রীদের সুবিধার জন্য গাড়িতে স্টিকার বসানো হবে যাতে যাত্রীরা চিনতে পারেন কোন বাস গ্যাসে চলে আর কোনটি ডিজেল চালিত। খুব শীঘ্রই সবকিছু ঠিকটাক করে মাঠে নামবে বিআরটিএ।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020