1. sparkleit.bd@gmail.com : K. A. Rahim Sablu : K. A. Rahim Sablu
  2. banglanews24ny@gmail.com : App Bot : App Bot
  3. diponnews76@gmail.com : Debabrata Dipon : Debabrata Dipon
  4. admin@banglanews24ny.com : Mahmudur : Mahmudur Rahman
  5. islam_rooney@ymail.com : Ashraful Islam : Ashraful Islam
  6. rumelali10@gmail.com : Rumel : Rumel Ali
  7. Tipu.net@gmail.com : Ariful Islam : Ariful Islam
দেশের ট্রপিক্যল রেইন ফরেস্ট নান্দনিক লাউয়াছড়া
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন




দেশের ট্রপিক্যল রেইন ফরেস্ট নান্দনিক লাউয়াছড়া

স্টাফ রিপোর্ট
    আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চা বাগানের নারী শ্রমিকদের কচি পাতা উত্তোলনের দৃশ্য আর দিগন্ত রেখায় মিলিয়ে যাওয়া বিস্তৃত চা বাগানের সৌন্দর্য যেন মায়াময় এক স্বপ্নের জগত। মিনি চিড়িয়াখানার নানা প্রজাতির বিরল পশু আর মাথার ওপর দিয়ে ওড়ে যাওয়া অচেনা পাখির ঝাঁক দেখে হয়তোবা বিস্ময়ে ছানাবড়া আপনার চোখ। আর সে মুহুর্তেই পাশের ছাতিয়ান গাছটি থেকে বানরের পাল যদি আপনাকে ভেঙচি কাটে তখন কেমন লাগবে আপনার? ব্যস্ত নাগরিক জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা প্রতিটি মানুষেরই একঘেয়েমি কাটাতে ভ্রমণ আসতে চায় এরকম জায়গায়। এমনই জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর মহামিলনের নান্দনিক স্থান মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।

দেশ ও বিদেশের অজস্র ভ্রমণ পিপাসুরা প্রতিনিয়তই ছুটে আসছেন আনন্দ ভ্রমণ কিংবা শিক্ষা সফরে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কমলগঞ্জ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। মৌলভীবাজার ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন কমলগঞ্জের এই ন্যশনাল পার্ক শুধু যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য শুধু তাই নয়, দেশের সবকটি বনাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে নান্দনিক ও আকর্ষণীয়।

দেশের ট্রপিক্যল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত এ পার্কটি বিনোদনের আকর্ষণীয় স্পটে পরিণত হয়েছে। উচুঁ-নিচু পাহাড় ও ঝরনা ধারায় পরিপূর্ণ দেশের প্রসিদ্ধ এ পিকনিক স্পটটি বছরের ৩৬৫ দিনের প্রতিদিনই অগণিত পর্যটকদের পদভারে হয়ে উঠে মুখরিত।

১৯২৫ সালে ১২৫০ হেক্টর জায়গা জুড়ে প্লান্টেশন করে তৈরি বনরাজী এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে। সব মিলিয়ে পর্যটক গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এই পার্কটি এক অনন্য সুযোগ। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই পার্কে দেখা মেলে বিভিন্ন বিরল প্রজাতির পশু-পাখি। বিভিন্ন দেশের পাখিপ্রেমীরা লাউয়াছড়ায় ছুটে আসেন দেখতে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ধীরে ধীরে দেশের শিক্ষা, গবেষণা, ইকু-ট্যুরিজমসহ ভ্রমণ বিলাসীদের চিত্র বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পট হয়ে উঠেছে। গভীর অরণ্য সমৃদ্ধ, অদ্ভুদ এক নির্জন পরিবেশে অবস্থিত। কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষাদি। এর মধ্যে সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, ম্যানজিয়াম, ডুমুর প্রভৃতি উল্লেখ্যযোগ্য। এ বনেই ছিল এশিয়ার বিখ্যাত বিরল প্রজাতির কোরোফর্ম বৃক্ষ। কয়েক বছর আগে ঝড়ে এ গাছটির মৃত্যু ঘটে।

এছাড়া ও রয়েছে ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরিসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের মধ্যে বিরল প্রজাতির উল্লুক, বানর, লজ্জাবতি বানর, হনুমান, ধনেশ, শ্যামা, অজগর, মেছোবাঘ, হরিণ প্রভৃতি উল্লেখ্যযোগ্য।

এ বনের বিচিত্র পশুপাখি ও পোকা মাকড়ের ঝিঝি শব্দ, বানরের ভেঙচি আর উল্লুখের গাছে গাছে ছুটছুটি পর্যটকদের মনে অনাবিল আনন্দ ও শিহরণ জাগিয়ে তুলে। এ বনে রয়েছে ৩টি প্রাকৃতিক ফুট ট্রেইল বা পায়ে হাঁটা পথ।

এরমধ্যে একটি ৩ ঘণ্টার, একটি ১ ঘণ্টার ও একটি ৩০ মিনিটের পথ রয়েছে। পর্যটকরা ইকো-ট্যুর গাইডের সাহায্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করে পার্কটি ঘুরে দেখতে পারেন। এ পার্কে পর্যটকদের জন্য একটি ইনফরমেশন সেন্টার রয়েছে। এখান থেকে পাওয়া যায় পর্যটনের যাবতীয় তথ্যাদি।

এছাড়াও পার্কে রয়েছে ইকো-কটেজ, ইন্সপেকশন বাংলো, গোলঘর ফেন্সী ব্রিজ টয়লেট প্রভৃতি। পর্যটকদের সুবিধার জন্য পার্কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে বিলবোর্ড ও নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড।

বিশ্বের অগণিত প্রিয় গবেষক, পর্যটকদের সুপরিচিত কমলগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে উচু-নীচু পাহাড়ি টিলায় প্রচুর পরিমাণ চা, আনারস ও কাগজিলেবুর বাগান। এছাড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন আদিবাসী খাসিয়াদের পান পুঞ্জি, উঁচু-নিচু পাহাড় আর খাসিয়া, মণিপুরী ও পাহাড়ি লালনদের নানা সংস্কৃতি দেখতে ও জানতে হলে ভ্রমণ করতে পারেন কমলগঞ্জে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঢাকা লেকসিটি কংকট থেকে আসা হাসান আল মামুন, তাহা ও জিনাত রায়হানা ও রোমানা আক্তার বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এখানে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের বিলুপ্ত প্রাণীদের এখানে দেখেছি। দীর্ঘ সময় সবুজ এ বন ঘুরে সত্যিই ভালো লেগেছে।

তারা আরও বলেন, এখানে অনেক ময়লা পড়ে আছে, সেগুলো বন্যপ্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর। জঙ্গলে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না, এই উদ্যান আমাদের জাতীয় সম্পত্তি। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও আমাদের দায়িত্ব। প্রাণীরা এই খাবার গুলো খেলে মৃত্যু হতেও পারে। সেইজন্য বন বিভাগকে এগুলো পরিচর্যা করতে হবে।




খবরটি এখনই ছড়িয়ে দিন

এই বিভাগের আরো সংবাদ







Copyright © Bangla News 24 NY. 2020